দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে বরফ গলানোর ইঙ্গিত—বেজিঙে মুখোমুখি বৈঠকে আমেরিকা ও চিন একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং। প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে সহযোগিতার পথেই হাঁটার আহ্বান জানিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার মন্তব্যে স্পষ্ট, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বেজিঙের তিয়েনানমেন স্কোয়ার সংলগ্ন ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ লাল গালিচা সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৈঠকের আগে থেকেই দুই নেতার শরীরী ভাষায় ছিল সৌহার্দ্যের ছাপ। করমর্দনের মুহূর্ত থেকে শুরু করে বৈঠক কক্ষে প্রবেশ—সব ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা।


বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্প জিনপিংকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আপনার বন্ধু হতে পেরে আমি সম্মানিত। আপনার সঙ্গে এই সাক্ষাৎ আমার কাছে বিশেষ সম্মানের।” একইসঙ্গে এই সম্মেলনকে তিনি ‘এযাবৎকালের সবচেয়ে বড়’ বৈঠক বলেও অভিহিত করেন।
‘প্রতিদ্বন্দ্বীতা নয়, অংশীদার হই’—বেজিঙে ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠকে নরম সুর, সম্পর্ক উষ্ণ করার ইঙ্গিত

অন্যদিকে, জিনপিংও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, “চলুন আমরা একসঙ্গে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি। গোটা বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন, দুই শক্তিধর দেশের উচিত একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে সহযোগী হিসেবে এগিয়ে যাওয়া। পারস্পরিক উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খোঁজার উপরই জোর দেন চিনা প্রেসিডেন্ট।
প্রায় নয় বছর পর কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেজিঙ সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল। বিশেষ করে গত বছরের শুল্ক-সংঘাতের পর এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।


উল্লেখযোগ্যভাবে, বুধবার ট্রাম্প বেজিঙে পৌঁছনোর সময় তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যান ঝেং—যা আগের সফরের তুলনায় অনেকটাই উচ্চস্তরের অভ্যর্থনা। এই পদক্ষেপ থেকেই স্পষ্ট, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জমে থাকা শৈত্য কাটাতে আগ্রহী বেজিং।
তিন দিনের এই সফরে দুই দেশের বাণিজ্য, কৌশলগত সম্পর্ক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৈঠকের শুরুতেই যে সুর তৈরি হয়েছে, তাতে অন্তত আপাতত সংঘাত নয়, সহযোগিতার দিকেই ঝুঁকছে ওয়াশিংটন ও বেজিং—এমনটাই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।







