করোনার স্মৃতি এখনও তাজা। তার মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হান্টা ভাইরাস। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে যাত্রা করা এমভি হন্ডিয়াস নামের একটি ক্রুজকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক দেশে সংক্রমণের খবর মিলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত সাতটি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং একটি সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন দুই ভারতীয় নাগরিকও। যদিও বর্তমানে তাঁদের শরীরে কোনও উপসর্গ নেই বলে জানিয়েছে স্পেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।
কোন কোন দেশে মিলেছে সংক্রমণের হদিশ?
নেদারল্যান্ডস
সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে নেদারল্যান্ডস-এ। এখনও পর্যন্ত দুই ডাচ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও এক জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।


দক্ষিণ আমেরিকা সফরের পর এক ডাচ দম্পতি ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে ক্রুজে ওঠেন। ৭০ বছরের ওই ব্যক্তির ৬ এপ্রিল উপসর্গ দেখা দেয় এবং ১১ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও পরীক্ষায় হান্টাভাইরাস নিশ্চিত হয়নি, তবুও WHO তাঁকে সম্ভাব্য আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
পরে তাঁর ৬৯ বছরের স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়েন। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। ৪ মে তাঁর শরীরে অ্যান্ডিজ স্ট্রেনের হান্টাভাইরাস ধরা পড়ে।
এছাড়া জাহাজের এক ডাচ চিকিৎসকের শরীরেও সংক্রমণ ধরা পড়েছে। বর্তমানে তিনি আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন।


যুক্তরাজ্য
UK-এ এখনও পর্যন্ত দুটি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং একটি সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে।
এক ব্রিটিশ যাত্রী ২৪ এপ্রিল অসুস্থ হন। পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর শরীরে অ্যান্ডিজ স্ট্রেন শনাক্ত হয়। এছাড়া আর এক ব্রিটিশ গাইডের শরীরেও ৬ মে সংক্রমণ ধরা পড়ে।
আরও এক ব্রিটিশ যাত্রী ট্রিস্টান দা কুনহা দ্বীপে নামার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে এখনও সম্ভাব্য আক্রান্ত হিসেবেই বিবেচনা করছে WHO। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে ওই দ্বীপে পৌঁছয়।
জার্মানি
জার্মানি-এর এক মহিলা যাত্রীর ২ মে মৃত্যু হয়। জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর পরীক্ষায় তাঁর শরীরে অ্যান্ডিজ স্ট্রেনের হান্টাভাইরাস ধরা পড়ে।
সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ড-এর এক যাত্রী সেন্ট হেলেনা হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কাতার পেরিয়ে দেশে ফেরেন। পরে তাঁর শরীরেও সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। বর্তমানে তিনি আইসোলেশনে রয়েছেন।
ভারতীয় নাগরিকদের অবস্থা কী?
স্পেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, এমভি হন্ডিয়াস জাহাজে থাকা দুই ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং তাঁদের শরীরে কোনও উপসর্গ নেই। তবুও তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
কেন উদ্বেগ বাড়ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্ডিজ স্ট্রেনের হান্টাভাইরাস অত্যন্ত বিরল হলেও তা মারাত্মক হতে পারে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, জ্বর এবং নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। ইতিমধ্যেই একাধিক দেশে মৃত্যু হওয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



