সন্ত্রাস দমনে ভারতের নতুন অস্ত্র ‘প্রহার’! জিরো টলারেন্স নীতিতে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিল কেন্দ্র

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে ভারতের প্রথম সমন্বিত কৌশল ‘প্রহার’। জঙ্গিদের অর্থ, অস্ত্র ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ভাঙতেই নতুন উদ্যোগ কেন্দ্রের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও আক্রমণাত্মক পথে হাঁটল ভারত। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে নতুন কৌশল ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল ভারতের প্রথম সমন্বিত সন্ত্রাস দমন নীতি ‘প্রহার’, যার লক্ষ্য শুধু জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শিকড় সম্পূর্ণভাবে উপড়ে ফেলা।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রক জানিয়েছে, নতুন এই নীতির মূল দর্শন ‘জিরো টলারেন্স’। অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কোনও রকম আপস নয়। ডিজিটাল যুগে গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আগাম হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়াই হবে ‘প্রহার’-এর প্রধান লক্ষ্য।

‘প্রহার’ নীতির মূল উদ্দেশ্য কী?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নীতির মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদীদের শুধু মোকাবিলা নয়, তাদের অস্তিত্বের ভিত্তিই দুর্বল করে দেওয়া হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জঙ্গিদের অর্থের উৎস, অস্ত্র সরবরাহ চক্র এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার উপর।

‘প্রহার’-এর প্রধান ভিত্তি

নতুন সন্ত্রাস দমন নীতির কয়েকটি মূল দিক হলো—

  1. দেশের নাগরিক ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় শক্তিশালী সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

  2. হামলা বা হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ।

  3. কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি।

  4. আইন ও মানবাধিকার মেনে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা।

  5. মৌলবাদ ও উগ্রপন্থার মতো সন্ত্রাসবাদে প্ররোচনামূলক উপাদান দমন।

  6. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

  7. সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করা।

প্রতিবেশী দেশ ও সীমান্ত সন্ত্রাস প্রসঙ্গ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক পরোক্ষে পাকিস্তানকে নিশানা করে জানিয়েছে, কিছু দেশ সন্ত্রাসবাদকে কার্যত রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ করে তুলেছে। সীমান্তের ওপার থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে—ভারত সন্ত্রাসবাদকে কোনও ধর্ম বা জাতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখে না।

নতুন যুগের সন্ত্রাস, নতুন কৌশল

মন্ত্রকের মতে, আল-কায়েদা ও আইএসআইএস-এর মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন বিদেশ থেকে কার্যকলাপ পরিচালনা করছে। জম্মু ও কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে হামলার পরিকল্পনায় ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন ও যোগাযোগ চালানো হচ্ছে—যা মোকাবিলায় ডিজিটাল নজরদারির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক অভিযানের প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি দেশজুড়ে বড়সড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। আইএসআই-যোগ সন্দেহে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দু’জন পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে ছিল। একই সময়ে জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে দুই জইশ জঙ্গি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইকে নতুন কাঠামোয় আনতেই চালু করা হল ‘প্রহার’।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন