নজরবন্দি ব্যুরোঃ মুখ্যমন্ত্রী বললে জেল খেটে নেব, দেহরক্ষী মৃত্যু কাণ্ডে এভাবেই মুখ খুললেন শুভেন্দু অধিকারী! গতকাল কাঁথি থানায় শুভব্রত চক্রবর্তীর স্ত্রী সুপর্না চক্রবর্তী তাঁর স্বামীর রহস্য মৃত্যু নিয়ে সত্য উদঘাটনের জন্যে অভিযোগ দায়ের করেন। সুপর্নার স্বামী শুভব্রত চক্রবর্তী শুভেন্দুর দেহরক্ষী ছিলেন প্রায় ৭ বছর। কিন্তু আচমকাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুর কারন নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নয়া ‘কাপ্পা’ ভ্যারিয়েন্ট হানা দিল উত্তরপ্রদেশে, অন্যদিকে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ডেল্টা।


স্বামীর মৃত্যু ধোঁয়াশা কাটিয়ে সত্যতা জানতে ঘটনার প্রায় তিন বছর পর অভিযোগ দায়ের করেছেন সুপর্না। অভিযোগ পত্রে তিনি বলেছেন, “প্রায় ৬-৭ বছর শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন তাঁর স্বামী।” গত ১৩/১০/২০১৮ তে তাঁর স্বামী সকাল ১০টা নাগাত ফোনে জানান বাড়ি ফেরার কথা। কিন্তু তিনি আর ফেরেন নি। সুপর্ণা খবর পান তাঁর স্বামীর মাথায় গুলি লেগেছে, গুলি চালিয়েছেন নিজেই।
ঘটনার প্রায় ৩ বছর পর সুপর্ণা অভিযোগ দায়ের করেছেন কাঁথি থানায়। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে খুন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করে শুরু হয়েছে তদন্ত। অভিযোগকারিণীর এফআইআর এ উঠে এসেছে শুভেন্দু ঘনিষ্ট রাখাল বেরার নামও। গতকাল রাতে এই খবর প্রকাশ করে নজরবন্দি। তারপর আজ সকাল থেকেই সেই খবর রাজ্যের সব সংবাদ মাধ্যমে দেখা যায়। তাই কিছুটা চাপে পড়েই এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বললে জেল খেটে নেব, ৩ বা ৬ মাস! বক্তা শুভেন্দু অধিকারী
মুখ্যমন্ত্রী বললে জেল খেটে নেব, বলে এদিন কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বিরোধী দলনেতা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই পদক্ষেপ। তাঁর কথায়, “ওই বিষয়ে একবার এফআইআর হয়েছে, ফাইনাল চার্জশিট হয়েছে। আজকে ২ বছর ৮ মাস পর কলকাতার নির্দেশে এফআইআর হয়েছে কারণ ওই পরিবারে তৃণমূলের বিধায়ক জিতেছে। এফআইআর-এর কারণটা রাজনৈতিক। আমাকে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ নেই।”



এরপরেই তাঁর সংযোজন, “সোজাসুজি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলুন, শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে তুমি আমায় হারিয়ে দিয়েছো, তোমাকে ৩ বা ৬ মাস জেলে থাকতে হবে। এটা সরাসরি বলে দিন। যেদিন বলবেন পরেরদিনই তাঁর নির্দেশ মেনে, তাঁর ইচ্ছে মর্যাদা দিয়ে আমি সেই কয়েকদিনে জেলে কাটিয়ে নেব। তিনি তো আমার থেকে বড়।” শেষে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “২ মে-র পর যাই করবেন, তাতে শুভেন্দু অধিকারীর লাভ হবে, কোনও লোকসান হবে না।”







