নির্বাচনে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা না পেলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন বলে হুশিয়ারি দিল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: নির্বাচনে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা না পেলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন বলে হুশিয়ারি দিল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। আজই রাজ্যে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেই সুযোগে একগুচ্ছ দাবিদাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশুনের কাছে ডেপুটেশন জমা দিল শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চ। তিনদিনের সফরে আজ রাজ্যে এসে পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। তাঁদের মধ্যমণি করে ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ ভোটকর্মীদের সুনিশ্চিত নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভে বসেন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সদস্যরা।

আরও পড়ুনঃ ‘গোলি মারো শালো কো’, স্লোগান এবার খোদ শুভেন্দুর মিছিলে!

বুধবার অর্থাৎ ২০শে জানুয়ারী বেলা দেড়টা নাগাদ কলকাতার জিপিও-র কাছে সিইও অফিসের সামনে বিক্ষোভে বসেন তাঁরা। সূত্রের খবর, সেইসঙ্গে ৯ দফা দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে ডেপুটেশনও জমা দেন । বুধবার বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর অ্যাডিশনাল চিফ এলেক্টরাল অফিসার শৈবাল বর্মন এবং ডেপুটি সিইও বুলান ভট্টাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের দাবি তুলেন তাঁরা। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাডিশনাল চিফ এলেক্টরাল অফিসার শৈবাল বর্মন শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের যে ফুল টিম আসছে তাঁদের কাছে এই সকল দাবিদাওয়া তুলে করা হবে।

ভোট কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেও এদিন তিনি আশ্বাস দেন। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাডিশনাল চিফ এলেক্টরাল অফিসার শিক্ষকদের জানিয়েছেন কোন ভায়োলেন্সের বা হিংসাত্মক ঘটনায় যদি কোন ভোট কর্মীর মৃত্যু হয় তাহলে কুড়ি লক্ষ থেকে বাড়িয়ে তা 30 লক্ষ করা হয়েছে এবং সাধারন মৃত্যুর ক্ষেত্রে 15 লক্ষ টাকা করা হয়েছে যেখানে শিক্ষকরা সেটিকে যথাক্রমে 50 এবং 30 লক্ষ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। প্রতিটি বুথে একজন অতিরিক্ত পোলিং অফিসার দেওয়ার দাবি জানালে তিনি জানান কোভিড পরিস্থিতিতে বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কোন অভিযোগ থাকলে সরাসরি অ্যাডিশনাল চিফ এলেক্টরাল অফিসারের কাছে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছেন শৈবালবাবু । এছাড়াও যথাসম্ভব সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে এদিন তিনি আশ্বস্ত করেন। যদিও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, তাঁদের দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে না দেখা হয় তাহলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন তাঁরা। আজকে ডেপুটেশন কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী, সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য অনামিকা চক্রবর্তী, সুলগ্না পাল, অফিস সম্পাদক অয়ন পাল প্রমুখরা।

বুধবার নির্বাচন কমিশনের কাছে যে ডেপুটেশন জমা দেন তাতে বলা হয়েছে প্রতিটি বুথে সেন্ট্রাল ফোর্স সহ প্রতিটি ভোট কর্মীর জন্য সুনিশ্চিত নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং তার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। প্রতিটি বুথে প্রিজাইডিং অফিসারের সহিত ৬ জন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে ভোটার এবং ভোট কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে দ্বিগুণ হারে এই নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থা রাখতে হবে। ডিউটিরত অবস্থায় হিংসাত্মক কোন ঘটনায় ভোট কর্মীর মৃত্যু হলে ৫০ লক্ষ টাকা আর সাধারণ মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৩০ লক্ষ টাকা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে দিতে হবে এবং পরিবারের একজনকে চাকুরি দিতে হবে।

হতাহতের জন্য আগে থেকে প্রতিটি ভোট কর্মীর জন্য বীমার ব্যবস্থা করে রাখতে হবে। ভোট গ্রহণের শেষে ভোট বাক্স জমা দেওয়ার পর রিলিজ অর্ডার দিয়ে দিলেই নির্বাচন কমিশনের সমস্ত দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ভোট গ্রহণের জন্য ভোট কর্মীদের বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার পর থেকে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তাঁর জীবনের সমস্ত নিরাপত্তার ভার নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে ভোট কর্মী এবং ভোটারদের সুরক্ষিত রাখার জন্য সমস্ত রকম উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি বুথে ভোট কর্মীদের থাকা, খাওয়া ও সঠিকভাবে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া পরিচালনার উপযুক্ত পরিকাঠামোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

প্রিজাইডিং অফিসারের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তৎক্ষণাৎ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভোটিং মেটেরিয়ালস জমা দেওয়ার পর বাড়ি ফেরার জন্য উপযুক্ত যানবাহন যথেষ্ট পরিমাণে রাখতে হবে। রিলিভারের জন্য প্রতিটি বুথে একজন করে অতিরিক্ত ভোট কর্মী দিতে হবে। প্রতিবন্ধীদের ভোট কর্মী হিসাবে নিয়োগ করে তাঁদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের ডিউটিতে গিয়ে খুন হন শিক্ষক রাজকুমার রায়।

তার হত্যা রহস্যের কিনারার দাবিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল হন রাজ্যের শিক্ষক মহল। যদিও রাজকুমার রায়ের মৃত্যুর কিনারা এখনও কিনারা করা যায়নি। রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় ইটাহারে ভোট গ্রহণের কাজে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে ছিলেন ৪৮ নম্বার বুথের প্রিসাইডিং অফিসার রায়গঞ্জের বাসিন্দা রাজকুমার রায়। পরের দিন এক রেললাইনের ধারে থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পরে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে ও সিবিআই তদন্ত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় মৃতের মা অন্নদা রায়।

নির্বাচনে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা না পেলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন বলে হুশিয়ারি দিল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। তাই আইনজীবী বিকাশ বাবু দাবি করেন পুলিশ কোনও তদন্তই করেনি। সঠিক ময়নাতদন্ত হয়নি এবং ময়নাতদন্তের কোন রেকর্ড করা হয় নি। এমনকি প্রিসাইডিং অফিসারের মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেয় নি। তাই সিবিআইকে দিয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত চায় তাঁরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত