চরম সংকটে রাজ্যের আইসিটি কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকারা!

চরম সংকটে রাজ্যের আইসিটি কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকারা!

নজরবন্দি ব্যুরোঃ চরম সংকটে রাজ্যের আইসিটি কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকারা! দীর্ঘদিন ধরে বারংবার কখনো প্রকাশ্য রাজপথে, কখনো শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে, কখনো বিকাশ ভবনের সামনে, আবার কখনো কালীঘাটে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিজেদের ন্যায্য দাবী দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করতে দেখা গেছে রাজ্যের হাজার হাজার ICT কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকাকে। আন্দোলনের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষক থেকে পার্শ্বশিক্ষক, SSK-MSK থেকে কলেজের অতিথি শিক্ষক সকলেই নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায় করলেও ব্রাত্যই রয়ে গেছেন এই ICT কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

আরও পড়ুনঃ বিজেপি ঠেকাতে ডেরেক, ওমপ্রকাশ, কুণাল-দের হাতে দলের ব্যাটন তুলে দিলেন মমতা।

প্রসঙ্গত, ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কম্পিউটার শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য বর্তমান রাজ্য সরকার রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে ২০১৩ সাল থেকে ICT প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে মোট চারটি ধাপে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার জন কম্পিউটার শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ করেন। যদিও রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের দায়ভার তুলে দেয় রাজ্য সরকারের অধীনস্থ WEBEL নামক সংস্থার হাতে। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলেও তার সুবিধা স্কুল বা এই সমস্ত কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকারা কেউই পায় না। Memo No:-20-SE(P&B)/ICT-02/2017, Dated-09/January/2029 অনুযায়ী রাজ্য সরকার এই প্রকল্পে প্রতিবছর ৩ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩৫৬ টাকা ব্যয় করেন।

অবাক করার মত কথা হলেও এটা সত্যি যে তা সত্ত্বেও এই সমস্ত ICT কম্পিউটার শিক্ষকদের বেতন মাত্র ৭ হাজার টাকা, যা বর্তমান মূল্য বৃদ্ধির যুগে নগন্য বা একজন দিনমজুরের থেকেও কম। এক্ষেত্রে বলাবাহুল্য , রাজ্য সরকার গত ২০১৯ সালের August মাসে একটি বিজ্ঞপ্তি (316-SE(P&B), Dated-14/August/2019) দিয়ে বলেন যে- রাজ্যের ICT কম্পিউটার শিক্ষক শিক্ষিকাদের বেতন ১০ হাজার টাকা এবং প্রতি বছর ৩% ইনক্রিমেন্ট চালু করা হলো। কিন্তু হাস্যকর বিষয়- তারপর এক বছর কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত এই সমস্ত কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাদের বেতনের এই সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিতই রয়ে গেছেন।কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কথা অনুযায়ী :- রাজ্য সরকার প্রতিবছর প্রত্যেকটি স্কুল পিছু যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেন তার বেশিরভাগটাই WEBEL নিযুক্ত থার্ডপার্টি কোম্পানি ( SchoolNet India Pvt.Ltd, Extramarks, Acess) মুনাফা হিসাবে পায়।

চরম সংকটে রাজ্যের আইসিটি কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকারা! রাজ্য সরকার নিজে বা তার অধীনস্থ WEBEL এর মাধ্যমে এই প্রকল্পটি সরাসরি পরিচালিত করলে রাজ্য সরকারের বিপুল পরিমাণ ব্যয় সংকোচন হবে, প্রায় অর্ধেকেরও কম ব্যায়ে এই প্রকল্প অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হবে এবং রাজ্যের কোষাগার আরও শক্ত হবে, যা এই দুর্দিনে সরকারের অনেকাংশে কাজে লাগবে। কম্পিউটার শিক্ষকদের অভিযোগ যে – তারা শিক্ষা দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে শুরু করে স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রীকে বারবার এই বিষয়ে অবগত করেছেন এবং এখনও করে চলেছেন, তা সত্ত্বেও কেউই এই বিষয়ে কর্ণপাত করেননি।রাজ্যের ICT কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংগঠন WB.ICT.SC.W.A এর হুগলী জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক- মাননীয় সৌমেন মন্ডল বলেন:- “আমরা বিগত 7 বছর ধরে বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রী ও সাধারণ শাখার শিক্ষক শিক্ষিকাদের কম্পিউটার শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষা দপ্তরের সমস্ত প্রকল্প ,যেমন- কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী ,সবুজসাথী, বাংলার শিক্ষা পোর্টাল ইত্যাদি আরও অনেক প্রকল্পের সমস্ত কাজ রাত জেগে আমরাই করে আসছি। এমনকি বিদ্যালয়ের যাবতীয় ক্লারিক্যাল কাজ আমরাই করে থাকি। এছাড়াও করোনার এই ব্যাপক প্রভাবকে ও মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করেও বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের দ্রব্য থেকে আরম্ভ করে মার্কশিট বিতরণ সর্ব ক্ষেত্রে আমরা ICT শিক্ষক-শিক্ষিকারা সবার আগে উপস্থিত থাকি এবং আগামী দিনেও থাকবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়- এত কিছু সত্ত্বেও রাতে আমাদের ভয়ে ভয়ে ঘুমাতে হয় কারন আমরা জানি না যে সকালে আমাদের চাকরিটা আর থাকবে কিনা।”

সৌমেন বাবু এও বলেন – মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকল্পের প্রতি সদিচ্ছা থাকার কারণেই তারা এখনো পর্যন্ত কাজে বহাল আছেন। কিন্তু চাকরির অনিশ্চয়তা এবং এই সামান্যতম পারিশ্রমিকে তারা সংসার চালাতে অপারগ। তার উপর কাজ না থাকলে পরিবার নিয়ে তাদের পথে বসতে হবে।রাজ্যের প্রত্যেকটি সাধারণ শাখার শিক্ষক শিক্ষিকা থেকে আরম্ভ করে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকগণ এমনকি সাধারণ মানুষ সকলের একটাই প্রশ্ন- রাজ্য সরকার যেখানে অনলাইন শিক্ষার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করছে, সেখানে কম্পিউটার শিক্ষকদের বিষয়ে রাজ্য সরকারের এতটা অমানবিক ও উদাসীনতার কারণ কি ??? সামনে 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিভিন্ন রূপরেখা সাজাচ্ছে তৃণমূল সরকার। তাই, এখন দেখার বিষয় এই যে প্রায় ৬৫০০ জন ICT কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি স্থায়ী হয়, নাকি তাদেরকে পরিবারসহ পথে বসতে হয়। এই দিকেই এখন তাকিয়ে সারাবাংলা তথা সারা দেশের মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *