ভোটের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক—হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও ইস্যুতে ক্রমেই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। ৫১ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্কে একদিকে যেমন এআই-নির্মিত ‘ফেক’ ভিডিওর অভিযোগ উঠছে, অন্যদিকে নিজেই নতুন করে প্রশ্ন তুললেন হুমায়ুন কবীর।
প্রথমে এই ভিডিওকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে তৈরি ভুয়ো’ বলে দাবি করা হলেও, শনিবার তাঁর বক্তব্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়। হুমায়ুন জানান, যে ভিডিওটি ঘিরে বিতর্ক, সেটি সম্পূর্ণ প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর কথায়, “পুরো ভিডিও ৫১ মিনিট ৯ সেকেন্ডের, অথচ দেখানো হয়েছে মাত্র ১৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ড। পুরোটা সামনে আনব।”
এই ইস্যুতে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জঙ্গিপুরের সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয় বুঝেই তৃণমূল এআই ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করছে। তাঁর বার্তা—এই ধরনের ‘মিথ্যাচার’-এর ফাঁদে পা না দিতে সতর্ক থাকুন সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে—হুমায়ুনের বক্তব্যের মধ্যে এত বৈপরীত্য কেন? দলীয় নেতৃত্বের দাবি, ভিডিওতে যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে, তা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানো উচিত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, তৃণমূল ভবনে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে কথোপকথনের মধ্যে একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নাম উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি, তবুও তা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে।
এদিকে হুমায়ুন জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যেই আইনি পথে এগোচ্ছেন এবং হাইকোর্টে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাঁর দাবি, সত্য সামনে আনতেই পুরো ভিডিও প্রকাশ করা হবে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই ভিডিও বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সত্যিই কি এটি ‘ফেক ভিডিও’, নাকি আংশিক তথ্য তুলে ধরে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি—এই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



