রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবি আজাদ রবিন। সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির এই প্রার্থী। তাঁর দাবি, “নোংরা রাজনীতির” অংশ হয়ে আর থাকতে চান না। অন্যদিকে, তাঁর বাবা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে বাবা ও ছেলের পরপর এই সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠছে হুমায়ুনের প্রতিষ্ঠিত দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও।
রেজিনগর উপনির্বাচনের দিন পুলিশের হাতে ‘হেনস্থা’র অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, ভোটের পরিস্থিতিতে তিনি অপমানিত হয়েছেন। এরপরই তিনি ঘোষণা করেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন আর রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একইসঙ্গে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি। এমনকি নওদার বিধায়ক পদ ছাড়ার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
হুমায়ুনের সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামনে এল রবিনের সিদ্ধান্ত। রেজিনগর উপনির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী ছিলেন তিনি। ভোটের ফল প্রকাশের আগে, আগামী ৯ অক্টোবর বহরমপুরের গণনা কেন্দ্রে যাবেন না বলেও আগেই জানিয়েছিলেন রবিন।
এবার সরাসরি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে রবিন বলেন, তিনি আর এই ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না। তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাবার সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
রবিনের কথায়, ভোটের দিন রেজিনগরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ হয়েছে, তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। সেই কারণেই রাজনীতি থেকে সাময়িকভাবে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে হুমায়ুনের ছেলে স্পষ্ট করেছেন, দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চান না। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি আগামী দিনে কীভাবে চলবে, সেই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎই দেবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
দলের কর্মীদের অবশ্য ইতিমধ্যেই শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন রবিন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে মতাদর্শগত লড়াই হতে পারে। কিন্তু পুলিশ-প্রশাসন কিংবা আইনরক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে প্রতিদিন সংঘাতে থেকে কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন।
রবিনের বক্তব্যে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন। তাঁর দাবি, বিপদে পড়লে সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছেই সাহায্য চাইবেন। কিন্তু সেই পুলিশই যদি ভোট দিতে যাওয়ার সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, তাহলে সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়— সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ এবং বর্তমানে ওই পঞ্চায়েত সমিতির অন্যতম সদস্য রবিন আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি পঞ্চায়েত সমিতির কোনও কাজে অংশ নেবেন কি না, সেটিও এখন নিশ্চিত নয়। আপাতত রাজনীতির এই পরিবেশ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে চান বলেই জানিয়েছেন তিনি।
হুমায়ুন কবীর দীর্ঘদিন ধরেই মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তাঁর তৈরি আম জনতা উন্নয়ন পার্টিকে ঘিরে এতদিন নিজের রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করেছিলেন তিনি। সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন রবিনও। ফলে বাবা ও ছেলে দু’জনেই যদি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে সংগঠনের নেতৃত্ব, কর্মীদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং দলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব— সবকিছু নিয়েই নতুন প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এই মুহূর্তে অবশ্য দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। রবিনও বলেছেন, ভবিষ্যতে দল কোন পথে যাবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে রেজিনগর উপনির্বাচনের পর বাবা ও ছেলের পরপর রাজনৈতিক সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



