নতুন দল ঘোষণার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদল, বালিগঞ্জের প্রার্থী নিশাকে সরালেন হুমায়ুন কবীর

সমাজমাধ্যমে ‘অগ্রহণযোগ্য উপস্থিতি’র অভিযোগে প্রার্থী প্রত্যাহার; নারীর স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক পরিণততা নিয়ে শুরু বিতর্ক

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরুতেই হোঁচট খেলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দল ঘোষণার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ঘোষিত প্রার্থী নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রত্যাহার করে নিলেন তিনি। এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

গত সোমবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থেকে নিজের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি)-র আত্মপ্রকাশ করেন হুমায়ুন। সেদিনই তিনি দশটি বিধানসভা কেন্দ্রের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সেই তালিকায় ছিলেন নিশা চট্টোপাধ্যায়, যাঁকে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র-এর মুখ হিসেবে সামনে আনা হয়েছিল।

নতুন দল ঘোষণার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদল, বালিগঞ্জের প্রার্থী নিশাকে সরালেন হুমায়ুন কবীর

মঞ্চে হুমায়ুনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নিশাও। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজনীতিতে তিনি নতুন হলেও দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। পারিবারিক পরিচয়ের সূত্রেই হুমায়ুন তাঁকে রাজনীতিতে আসার কথা বলেছিলেন। তবে তাঁকে সরাসরি বিধানসভা প্রার্থী ঘোষণা করা হবে, তা তিনি ভাবেননি বলেও জানান নিশা।

কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যমে নিশার কিছু ছবি ও ভিডিয়ো ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষিতেই সিদ্ধান্ত বদলান হুমায়ুন কবীর। তাঁর বক্তব্য, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঁর অঙ্গভঙ্গি ও উপস্থিতি বিধানসভার মতো দায়িত্বশীল জায়গার সঙ্গে মানানসই নয়। সাত দিনের মধ্যে বালিগঞ্জে নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।”

এই সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ বলেই মনে করছেন নিশা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “আমি নিজে প্রার্থী হওয়ার আবেদন করিনি। উনিই আমাকে প্রার্থী করেছিলেন, আবার নিজেই সরালেন। নারীদের আচরণ, পোশাক বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে সেন্সরশিপ করার অধিকার কারও নেই।” যদিও তিনি জানিয়েছেন, ঘটনায় তিনি দুঃখিত হলেও ভেঙে পড়েননি।

হুমায়ুন কবীরের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, নতুন দল গঠনের পর থেকেই নানা বিতর্ক ও বিভ্রান্তির মুখে পড়ছেন তিনি। কখনও বিদেশি ধর্মগুরু, কখনও নিরাপত্তা বা অনুদান সংক্রান্ত ঘটনায় তাঁকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। তাঁদের মতে, প্রার্থী তালিকা ঘিরে এই বিতর্কও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

সব মিলিয়ে, নতুন রাজনৈতিক দলের পথচলার শুরুতেই প্রার্থী নির্বাচন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে নারীর স্বাধীনতা ও রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ড নিয়েও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন