বাবরি অডিয়ো-কাণ্ডে ফের থানায় হুমায়ুন, সাড়ে ৪ ঘণ্টা জেরা! ঋতব্রতকে নিয়ে বিস্ফোরক নওদার বিধায়ক

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত বিতর্কিত অডিয়ো-কাণ্ডে বুধবার ফের বহরমপুর থানায় হাজিরা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। থানা থেকে বেরিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, তাঁকে খুনের চক্রান্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে পুলিশ ‘জামাই আদর’ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিতর্কিত অডিয়ো ক্লিপকে কেন্দ্র করে এর আগেও বহরমপুর থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন হুমায়ুন। ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এরপরই বুধবার ফের থানায় হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়। সেই মতো নির্ধারিত সময়ের আগেই সকাল ১১টা নাগাদ বহরমপুর থানায় পৌঁছে যান AJUP প্রধান।

থানায় ঢোকার আগে থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংখ্যালঘুদের ভিনরাজ্যে চলে যেতে বলছে এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তবে এই অভিযোগের সমর্থনে তিনি প্রকাশ্যে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি।

এরপরই ঋতব্রত শিবিরকে নিশানা করেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, “বিজেপির বি টিম ঋতব্রত শিবিরের কোনও অসুবিধা নেই।” একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রায় ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আরও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে হুমায়ুন বলেন, পুলিশ বিজেপি সরকারের হয়ে কাজ করছে। তাঁর অভিযোগ, বেলডাঙা, রেজিনগর এবং শক্তিপুরের পুলিশ তাঁর দলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। তবে পুলিশের তরফে তাঁর এই অভিযোগের কোনও সমর্থন এখনও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন। তাঁকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও তাঁর এই দাবির বিষয়ে কোনও স্বাধীন প্রমাণ বা পুলিশের তরফে এমন কোনও আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়নি।

এই অডিয়ো-কাণ্ডের সূত্রপাত একটি ফোনালাপ প্রকাশ্যে আসাকে কেন্দ্র করে। পুলিশের অভিযোগ, ওই কথোপকথনে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনে শোনা দ্বিতীয় কণ্ঠস্বর হুমায়ুন কবীরের হতে পারে বলে পুলিশের সন্দেহ। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।

এদিকে, রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগও তুলেছেন হুমায়ুন। অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। এর আগে দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছেও নালিশ করেছিলেন AJUP প্রধান।

হুমায়ুনের একের পর এক অভিযোগ নিয়ে অবশ্য পাল্টা কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “হুমায়ুন কবীরের বিষয়ে কথা বলার কোনও আগ্রহ নেই।”

বিতর্কিত অডিয়ো-কাণ্ডের তদন্ত এখনও চলছে। বুধবারের জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা কী তথ্য পেয়েছেন এবং পরবর্তী সময়ে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেদিকেই নজর। পাশাপাশি, ভোটের আগে তাঁর পুলিশের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন