নজরবন্দি ব্যুরোঃ টানা ৫৭ দিন বৃষ্টি নেই কলকাতায়। হাওয়া অফিস জানিয়ে দিয়েছে তীব্র গরম থেকে এখনই মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় নেই। আপাতত দক্ষিণবঙ্গে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে তাপপ্রবাহ। কিন্তু এরমধ্যেই তীব্র গরমে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি। ইতিমধ্যেই হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে রাজ্যে। হিট স্ট্রোকের কারনে অল্প বয়সী পড়ুয়াদের ভর্তি হতে হয়েছে হাসপাতালে। তাই জেনে রাখুন কি এই হিট স্ট্রোক। কিভাবে এড়াবেন ঝুঁকি। কি করবেন আর কি করবেন না।
আরও পড়ুনঃ গরমের তীব্র দাবদাহের মধ্যেও দর্শকের ব্যাপক উপস্থিতি, আবেগের নাম KIFF


মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রির বেশি হয়ে গেলে মানুষের রক্তচাপ কমে যায়, এমনকি অচেতনও হয়ে পড়তে পারে। এ সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘হিট স্ট্রোক’ বলে। যথাসময়ে চিকিৎসা না করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

স্বাভাবিকভাবে আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাপমাত্রা বাড়লে শরীরের রক্তনালি প্রসারণের মাধ্যমে অথবা ঘামের মাধ্যমে তাপ হারায় ও ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় থাকলে অথবা অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে শরীর তার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, যার কারণে ‘হিট স্ট্রোক’ হয়।



বৃদ্ধ ও শিশুদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণক্ষমতা কম থাকে; তাই তাদের হিট স্ট্রোক বেশি হয়। হিট স্ট্রোক-এ প্রাথমিক কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে। গরমে হিট স্ট্রোক ঘটার দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি ধরতে পারা গেলে অনেক জটিল অবস্থা থেকে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। সাধারনত নিচের লক্ষণগুলো হিট স্ট্রোক-এ দেখা যায়-
- শরীরের অত্যধিক তাপমাত্রা
- মাথাব্যথা
- দুর্বলতা
- ঝিমুনি
- বমি বমি ভাব
তবে শুধু এই লক্ষণ গুলোই নয়। রোগীর অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে গেলে আরো কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন-
- চামড়ার রং লালচে হয়ে যাওয়া
- মানসিক ভারসাম্যহীনতা
- হাঁটতে অসুবিধা দেখা দেয়া
- চোখের মণি বড় হওয়া
- বমি
- অসংলগ্ন কথাবার্তা বা আচরণ
- ঘন ঘন শ্বাস নেয়া
- হৃদপিণ্ডের দ্রুত গতি
- খিঁচুনি
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ।
তীব্র গরমে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে কি করবেন? কি করবেন না? গরমের দিনে কিছু নিয়ম মেনে চললে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচা যায়:

- ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, হালকা রঙের সুতির কাপড় হলে ভালো
- যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন
- রোদে বাইরে যাওয়ার সময় টুপি, ক্যাপ অথবা ছাতা ব্যবহার করুন
- প্রচুর পরিমাণে জল অথবা ফলের রস পান করতে হবে
- রোদে দীর্ঘ সময় ঘোরাঘুরি করবেন না।
- মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন।
- গ্রীষ্মকালে তীব্র শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।
দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও হাসপাতালে ভর্তি করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া গেলে বেশির ভাগ হিট স্ট্রোকের রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।







