নজরবন্দি ব্যুরোঃ বর্ষা ঢুকল মুম্বইয়ে, কোটাল- নিম্নচাপের জোড়া ফলায় বঙ্গে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা। রাজ্যে এখনও বর্ষা না ঢুকলেও প্রাক বর্ষার বৃষ্টিতে ভাসতে চলেছে গোটা বঙ্গ। একেই সাইক্লোন ইয়াসের ধাক্কা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি রাজ্য। তারই মধ্যে অমাবস্যার কোটাল এবং বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ভ্রূকুটি এই জোড়া ফলায় আগামী শুক্র ও শনিবার কলকাতা সহ উপকূলবর্তি সমস্ত এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা থাকায় মৎস্যজীবীদের যেতে বারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের সংখ্যা অল্প বাড়লেও রইলো লাখের নীচেই, কমছে মৃত্যু হারও


এদিকে, বুধবার সকাল থেকে আকাশের মুখভার। আজও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস। বৃহস্পতিবার থেকে বাড়বে বৃষ্টির দাপট। এদিকে, বজ্রপাতে বাঁকুড়ায় প্রাণহানি হয়েছে তিনজনের। সোমবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন অংশে চলছে বৃষ্টিপাত। এমন অবস্থায় আজ বুধবারও আকাশের মুখ ভার। আজও রাজ্যে বিক্ষিপ্তভাবে কয়েক পশলা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৫৬ থেকে ৯০ শতাংশ। দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে হালকা ঝোড়ো হাওয়া বওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য পেরিয়ে উত্তরবঙ্গে ঢুকে পড়েছে। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিকে। যেভাবে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় এবং দ্রুত এগোচ্ছে আবহাওয়াবিদদের অনুমান, আগামী ২-৩ দিনে দক্ষিণবঙ্গেও বর্ষা ঢুকবে।
আগামী শুক্রবার উত্তর বঙ্গোপসাগরে তৈরি হবে নিম্নচাপ। এই নিম্নচাপের হাত ধরেই বঙ্গজুড়ে বর্ষামঙ্গল। শনি ও রবিবারের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই বর্ষা ঢুকবে। রবিবারের মধ্যে বর্ষা ঢুকবে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের একাংশে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, সিকিম এমনকি ছত্তিশগড়ে নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা। অসম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, অরুণাচলপ্রদেশ, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে ইতিমধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও চলবে। অন্যদিকে বুধবারই মুম্বইয়ে ঢুকে পড়ল বর্ষা। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সারা দিন জুড়েই আকাশ মেঘলা থাকবে এবং মাঝারি বৃষ্টি হবে শহর ও সংলগ্ন এলাকায়।
এছাড়াও একটু কম জনঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। প্রবল বর্ষণে বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে যানবাহন চলাচল। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায়, তার জন্য আগে থেকে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করেছে প্রশাসন। কুরলা এবং সিয়ন স্টেশনের মাঝে রেললাইনে জল জমে যাওয়ায় কুরলা থেকে সিএসএমটি পর্যন্ত বন্ধ রেল পরিষেবা। বিভিন্ন এলাকায় সকালে ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যানবাহন পরিষেবা । সেন্ট্রাল রেলওয়ে সিপিআরও-র তরফে জানানো হয়েছে, রাস্তা থেকে জল নেমে গেলেই গাড়ি চলাচল শুরু হয়ে যাবে। বাণিজ্য-নগরীতে প্রত্যেক বছরই ১০ জুনের মধ্যেই ঢুকে পড়ে বর্ষা।


বর্ষা ঢুকল মুম্বইয়ে, কোটাল- নিম্নচাপের জোড়া ফলায় বঙ্গে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা। এ বছর এক দিন আগেই ঢুকে পড়ল, জানালেন মুম্বইয়ের হাওয়া অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল জয়ন্ত সরকার। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ‘‘এই দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মহারাষ্ট্র থেকে আগামী দু’দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে তেলঙ্গানা, অন্ধ্র হয়ে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে পৌঁছে যাবে।’’







