‘হকার উচ্ছেদ আমার লক্ষ্য নয়’, নেতা-পুলিশদের লোভ সংবরন করতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। অবৈধ ভাবে সরকারি জায়গা দখল হয়ে যাওয়া নিয়ে গত সোমবার রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও পুরনিগমের চেয়ারম্যান এবং মেয়রদের বিভিন্ন বিষয়ে ধমক দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকেই বেদখল হয়ে যাওয়া জমি দখলমুক্ত করতে তৎপর পুরসভাগুলি। রাজ্যের জায়গায় জায়গায় শুরু হয়েছে দখলদার উচ্ছেদ অভিযান। তা নিয়েই নতুন করে বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই সক্রিয় পুলিশ, গ্রেফতার ‘জমি মাফিয়া’ তৃণমূল নেতা!
আমরা যেটা বলতে চাই, সেটা হল একটা সিস্টেমের মধ্যে চলতে। আমি একজনকে সিস্টেম বানাতে বলেছি। রাজীব কুমারকে একটি সিস্টেম বানাতে বলেছি। সেটা বানিয়ে আমাকে দেবে। দিঘা, মুকুটমণিপুরে হকার তুলে দেওয়া হয়েছে। আর যেন নতুন করে না বসে, সেটা জেলাশাসককে দেখে নিতে হবে। কোনও নেতা যদি ইন্ধন দেন, তাঁকে গ্রেফতার করে নেবেন সঙ্গে সঙ্গে। সে যে দলেরই হোক। কোনও পুলিশ যদি বলে, তাঁকে পুলিশকেও গ্রেফতার করা হবে। ওপরতলার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করবে। রাজ্যের পরিচয় নষ্ট হচ্ছে। আমি তো বারণ করি নি। হকারি একটা ব্যবসা। তাঁদের সংসারগুলো চলবে কীভাবে।



কোভিডের সময়েও ৭ হাজার ৬৭৩ জন হকারকে ২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সাথীর আওতায় আনা হয়েছে। কিন্কু রাস্তা ফুটপাতই যদি দখল হয়ে যায়, দুর্ঘটনা বড়ে। যে যাঁর মতো প্লাস্টিক জমা করছে, গোডাউন বানিয়ে দিচ্ছে। হকার কমিটির যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের দেখা উচিত ছিল। স্টলের পাশে গোডাউন বানানোর অধিকার নেই। সে যত বড়ই নেতা হোন, কাউকে ছেড়ে কথা বলছি না।
হকার উচ্ছেদ আমার লক্ষ্য নয়, নেতা-পুলিশদের লোভ সংবরন করতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী



নবান্নে বৈঠকে মমতা বলেন, হকার উচ্ছেদ আমার লক্ষ্য নয় পুরো ব্যাপারটার একটা সৌন্দর্য্য বজায় রাখতে হবে। আগুন লাগবে না এমন জিনিস দিয়ে স্টল বানাতে হবে। প্রতিটি স্টলের নম্বর থাকবে। এক এক জন হকার এক একটি স্টল পাবেন। KMC এলাকায় নাম রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৬১ হাজারের বেশিহকার আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ৫৯ হাজার সিলেক্টেড। ২ হাজার বাদ গিয়েছে। কারণ তাদের চারটে করে ডালা। বাকিদের সুযোগ দিন। দয়া করে হকার নেতারা চাঁদা তুলবেন না, আর পুলিশকেও সেকথা বলছি। পুলিশ আর হকার নেতারা গরিব মানুষগুলোর থেকে চাঁদা তুলবেন না।
ভিডিয়ো সার্ভে করা হচ্ছে, যাঁরা যোগ্য, রেজিস্ট্রেশন পাননি, আরেকবার সার্ভে করে দেখা হবে, তাতে যদি একটা ডালায় রাজি হয়, একটা পরিবারে দুইভাই থাকতে পারে, যদি অন্য নামে। কিন্তু বহিরাগত নয়। তাঁদেরটা রিকনসিডর করব। তবে অন্য একটা জায়গা দেখতে হবে। গড়িয়াহাটে তো হাঁটার জায়গাই নেই। চারপাশে স্ট্ল দেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিক দেবেন না। স্টলের পিছনে ফায়ার ফ্রি নীল সাদা স্ক্রিন। হকার বাজার দেখতে সুন্দর করতে হবে। নিউ মার্কেট ঘিঞ্জি। কর্পোরেশনের গায়েই হকার বসে গিয়েছে। কাউন্সিলররা দেখেও দেখছেন না। আমি তো বলছি না তাঁদের সরিয়ে দিতে হবে। আমি বলছি নির্দিষ্ট জোন করা হোক। একটা দিক ফাঁকা থাকবে।







