ভারতের প্রতি বাংলাদেশের নয়া প্রতিবাদ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তব্য নিয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। অভিযোগ, ভারত থেকে হাসিনা যে সব বক্তৃতা দিচ্ছেন, তা দেশের ছাত্র-জনতা এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের উপরাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং ভারতে হাসিনার উস্কানিমূলক মন্তব্য বন্ধ করার অনুরোধ করেছে।
বাংলাদেশের প্রতিবাদ:
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ‘‘হাসিনা ভারত থেকে যে সমস্ত বক্তৃতা করছেন, তা ছাত্র-জনতা ভালভাবে নিচ্ছেন না। তিনি অবিরাম উস্কানি দিচ্ছেন।’’ বাংলাদেশের দাবি, হাসিনার উস্কানিমূলক মন্তব্যের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অশান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি নিয়ে তারা ভারতকে একটি প্রোটেস্ট নোট দিয়েছে এবং এখনও তার জবাব পায়নি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তারা ভারতীয় উপরাষ্ট্রদূতকে ডেকে এই বিষয়ে আলাপ করবেন।
ধানমন্ডি অশান্তি এবং সুধা সদন হামলা:
বুধবার রাতে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নম্বর বাড়িতে প্রথমে ভাঙচুর চালানো হয় এবং পরে ক্রেন দিয়ে বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পরেই, হাসিনার বাসস্থান ‘সুধা সদনে’ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই অশান্তি আরও তীব্র হয় যখন হাসিনা ভার্চুয়াল ভাষণ দেবেন বলে ঘোষণা করেন। তার ভাষণের পর, হাসিনার বিরোধী দল এবং সমর্থকরা ধানমন্ডিতে জমায়েত হয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু করেন।
হাসিনার আশ্রয় এবং প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশ চিঠি দিয়েছে:
পূর্ববর্তী গণ আন্দোলন এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে হাসিনা ৫ অগস্ট পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই তার প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে। তবে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করা হয়নি।
ভারতীয় উপরাষ্ট্রদূতকে তলব:
এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় উপরাষ্ট্রদূতকে তলব করে এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য অনুরোধ করেছে। তারা আশা করছে যে, ভারত হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তব্য বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।



