পুজোর ছুটিতে যদি একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকতে চান, তাহলে কলকাতা থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত গুড়গুড়িপাল হতে পারে আপনার আদর্শ গন্তব্য। পশ্চিম মেদিনীপুরের এই ছোট্ট গ্রামটি মূলত এর ঘন শালবনের জন্য পরিচিত, যেখানে পথের ধারে সারি সারি শালগাছ আপনাকে আমন্ত্রণ জানাবে।
গুড়গুড়িপালের জঙ্গল শুধু শালের জন্য বিখ্যাত নয়, এখানে মাঝে মাঝে সেগুন এবং আকাশমণি গাছও দেখা যায়। কাঁসাই নদীর ধারে বসে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং সেখান থেকে সূর্যাস্ত দেখা এখানে অন্যতম আকর্ষণ। প্রকৃতির নিস্তব্ধতায় ঢেকে থাকা এই স্থানটি আপনাকে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা দেবে।
কলকাতা থেকে মাত্র চার ঘণ্টা, পুজোর ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটান দিন

গুড়গুড়িপালে ঘুরে বেড়াতে গেলে শালের জঙ্গলে জার্ডন’স নাইটজ়ার, জাঙ্গল আওলেট, ইন্ডিয়ান পিট্টার মতো দুর্লভ পাখিদেরও দেখা মেলে। প্রকৃতির এই নীরবতায় আপনি হঠাৎ করেই হস্তীপরিবারের সঙ্গেও মুখোমুখি হতে পারেন।
গুড়গুড়িপাল ভ্রমণ: কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে গুড়গুড়িপালের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। গাড়ি নিয়ে রওনা দিলে প্রায় চার ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন। কলকাতা থেকে সড়কপথে প্রথমে কোলাঘাট, তারপর ডেবরা হয়ে মেদিনীপুর শহর পর্যন্ত পৌঁছতে হবে। মেদিনীপুর থেকে ধেড়ুয়াগামী রাস্তা ধরে গোপগর পেরোলেই গুড়গুড়িপালের শালবন।

গুড়গুড়িপালে থাকার ব্যবস্থা
গুড়গুড়িপালে থাকার জন্য একটি বেসরকারি নেচার ক্যাম্প আছে, যেখানে তাঁবুতে থাকার সুবিধা পাবেন। তবে মেদিনীপুর শহরে ছোট-বড় হোটেল বা লজ পাওয়া যায়, তাই সেখানে থাকতে পারেন। কেউ চাইলে ভোরে গিয়ে রাতে কলকাতায় ফিরেও আসতে পারেন।
আর কী দেখবেন?
গুড়গুড়িপালের আশপাশের মেঠোপথে ঘুরে দেখার পাশাপাশি, স্থানীয় গ্রামগুলোতেও ভ্রমণ করতে পারেন। এ ছাড়া বিখ্যাত পাথরা মন্দির, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি এবং কনকদুর্গা মন্দিরও আপনার তালিকায় রাখতে পারেন। ঝাড়গ্রাম থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গনগনি, বাংলার ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ নামে পরিচিত, সেটিও ঘুরে দেখতে পারেন।
গুড়গুড়িপাল থেকে বেলপাহাড়ি বা কর্ণগড় মহামায়া মন্দিরেও সহজেই যেতে পারেন। এছাড়া মেদিনীপুরে অ্যানিকাট জলাধারও আরেকটি দর্শনীয় স্থান। এই অঞ্চলের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে বারবার এখানে আসতে উৎসাহিত করবে।








