ইরান-কাতারের গ্যাস ভাণ্ডারে বিধ্বংসী হামলা, সেনসেক্সে ধস, কাঁপছে বাজার

ইরান-কাতারের গ্যাস ভাণ্ডারে হামলার পর জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা, সেনসেক্স ১৬০০ পয়েন্টের বেশি পতন—বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল বিশ্ব অর্থনীতিতে। ইরান ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস ভাণ্ডারে ধারাবাহিক হামলার পরই ছড়িয়ে পড়েছে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা। আর তার জেরেই বৃহস্পতিবার সকালেই ধস নামল এশিয়ার শেয়ার বাজারে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, বাজার খুলতেই বড়সড় পতন—যা নতুন করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্রের খবর, প্রথমে ইরানের সাউথ পারস গ্যাস ফিল্ডে হামলা চালায় ইজরায়েল। এরপর পাল্টা কাতারের রাস লাফান এলপিজি ভাণ্ডারে আঘাত হানে ইরান। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯:১৬ নাগাদ বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স প্রায় ১৬৩২ পয়েন্ট বা ২.১৩ শতাংশ পড়ে ৭৫,০৭২.২৪-এ নেমে আসে। অন্যদিকে নিফটি৫০ প্রায় ৫০০ পয়েন্ট বা ২.১০ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২৩,২৭৭.৩৫-এ। বাজারে এই ধস বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শুধু সূচক নয়, বড় বড় সংস্থার শেয়ারেও ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখা গিয়েছে। জ্বালানি, ব্যাংকিং এবং মেটাল সেক্টরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বাজার বিশেষজ্ঞরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস-এর প্রধান বিনিয়োগ স্ট্র্যাটেজিস্ট ড. ভি কে বিজয়কুমার জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকলে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির উপর বড়সড় চাপ পড়বে। তাঁর মতে, যদি তেলের দাম দীর্ঘদিন ১১০ ডলারের উপরে থাকে, তবে তা দেশের জিডিপি বৃদ্ধি এবং কর্পোরেট আয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছে, চলতি বছরে মাত্র একবার সুদের হার কমানো হতে পারে। এই বার্তাও বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে, যার ফলে ওয়াল স্ট্রিট থেকে শুরু করে এশিয়ার বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট—মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা যত বাড়বে, ততই বিশ্ব অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠবে। এখন নজর, এই সংঘাত কত দ্রুত থামে এবং বাজার আবার স্থিতিশীল হয় কি না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর