বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে—আর সেই বদলের কেন্দ্রে আমেরিকার আগ্রাসী কৌশল। ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্টকে বন্দি করা এবং প্রকাশ্যে তেলের নিয়ন্ত্রণের দাবি, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে বলে কড়া ভাষায় সতর্ক করল জার্মানি। এই অস্থির সময়ে বিশ্বকে “ডাকাতদের আখড়া” হয়ে উঠতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভারতের মতো শক্তিকে সামনে আসার ডাক দিলেন জার্মান প্রেসিডেন্ট।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন United States যে পথে এগোচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুনকে কার্যত অস্বীকার করছে—এমনই অভিযোগ তুলেছেন Frank-Walter Steinmeier। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, শক্তির জোরে দখলদারি চলতে থাকলে গোটা বিশ্বকেই তার মাশুল দিতে হবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “যা খুশি দখল করে নেওয়ার প্রবণতা থামাতে না পারলে ভবিষ্যৎ আরও ভয়াবহ হবে।”


স্টাইনমায়ারের বক্তব্যে উঠে এসেছে, ভেনেজুয়েলায় অভিযানের নেপথ্যে তেলের স্বার্থ লুকোনো নয়—সে কথা ওয়াশিংটন নিজেই স্বীকার করেছে। এই নীতিকে তিনি “নীতিহীন ক্ষমতার প্রদর্শন” বলে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভারসাম্য ভেঙে দিচ্ছে, যা কেবল একটি অঞ্চলের নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই বিপজ্জনক।
ঘটনাচক্রে, ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পরই গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন Donald Trump। সেই সময় গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রক Denmark-এর পাশে দাঁড়িয়ে কড়া বিবৃতি দিয়েছিল জার্মানি। আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট NATO-র সদস্য হয়েও ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী ভূমিকাকে সমর্থন করেনি বার্লিন।
জার্মান প্রেসিডেন্টের মতে, এর আগে রাশিয়ার ক্রাইমিয়া দখল ও ইউক্রেনে আগ্রাসন বিশ্ব ব্যবস্থাকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। কিন্তু ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সাম্প্রতিক অভিযান সেই ধাক্কাকে আরও গভীর করেছে। ট্রাম্প জমানার মার্কিন বিদেশনীতি বিশ্বকে এক নতুন, আরও সংঘাতপূর্ণ অধ্যায়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেই তাঁর আশঙ্কা।


এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক স্থিতাবস্থা ফেরাতে স্টাইনমায়ার বিশেষভাবে India ও Brazil-এর মতো দেশগুলির ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, Narendra Modi-র নেতৃত্বে ভারত কেবল আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষাকারী এক গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হতে পারে।







