নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে দেশ তথা আমাদের রাজ্য। আক্রান্তের দিক থেকে আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ভারতের দ্বিতীয় স্থানে। মহারাষ্ট্রের পরেই বাংলায় প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন দ্বিতীয় স্থানে। এর মধ্যে কলকাতা ভারতের সবচেয়ে বেশি করো না আক্রান্ত শহরের মধ্যে প্রথম। এই অবস্থায় শুরু হচ্ছে গঙ্গাসাগর মেলা। যেখানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হবেন।
আরও পড়ুনঃ দেশে আজ করোনা আক্রান্ত ১ লক্ষ ৪১ হাজারের বেশি, জরুরি বৈঠকে মোদি, বন্ধ হচ্ছে পুরীর মন্দির


কলকাতা পুরসভার সূত্রের খবর, গঙ্গাসাগরের পথে যাওয়া মানুষের মধ্যে ৩১ জনের করনা আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। বাবুঘাটের ক্যাম্পে পরীক্ষায় ২০ জনের আক্রান্তের হদিস মিলেছে। অপরদিকে শিয়ালদহের ক্যাম্পে ৬ জনের আক্রান্তের খবর মিলেছে। এছাড়াও আরো ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর এই আক্রান্তের সংখ্যা দেখেই কপালে ভাঁজ পড়েছে বিশেষজ্ঞদের।

কারণ যাদের করোনা ধরা পড়েছে সেই সমস্ত পুণ্যার্থীদের মধ্যে সেই রকম কোন হেলদোল দেখা যায়নি। বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক হীন অবস্থায় রয়েছেন। আক্রান্তদের সেফ হোমে পাঠানোর হয়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি টেস্ট রিপোর্ট হাতে আসেনি ফলে এদের কাছ থেকে আর কতজন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন সেই হিসেবে এখনো পর্যন্ত নেই। এই ঘটনায় এবার চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসকদের একাংশের।



তাঁদের মত পরিস্থিতিতে লাগাম না দিলে শেষ পর্যন্ত যদি পাঁচ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে যান তাহলে তা সুপার স্পিডে পরিণত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এক সঙ্গে মেলা করা আর সংক্রমণ আটকানো চেষ্টা করাটা খুব ভুল। এই অবস্থায় মেলা হলে সংক্রমণ বহুগুণ বাড়বে যার ফলে ভুগতে হবে সব্বাইকে। উল্লেখ্য গঙ্গাসাগর মেলা যাতে না হয় সেই জন্য কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। বিরোধী দলগুলির থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যাতে এবছর গঙ্গাসাগর মেলা না করা হয়।

কিন্তু হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ এরপর রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রিত উপায় গঙ্গাসাগরের মেলা আয়োজন করা হবে। কিন্তু পৌষ সংক্রান্তির যত এগিয়ে আসছে ততই কিন্তু ভয় বাড়ছে করোনা আক্রান্ত হবার অবস্থা বা গতি দেখে। হাইকোর্টের তরফ থেকে শর্তসাপেক্ষে মেলা করার অনুমতি দিয়ে পর্যবেক্ষণের জন্য তিন সদস্যের কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
এক দিনেই আক্রান্ত ৩০ জন পুণ্যার্থী! গঙ্গাসাগর মেলা কি সুপার স্প্রেডার হবে? চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা
সেই কমিটি দেখবে, সবরকমের কোভিড বিধি মানা হচ্ছে কিনা। কমিটিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব ছাড়াও বিরোধী দলনেতা কিংবা তাঁর প্রতিনিধি এবং রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকেও রাখার কথা বলা হয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে রাজ্যের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান পদে কেউ না থাকায় কীভাবে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে রাখার কথা বলা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।







