ব্রণ বা পিম্পলের সমস্যা শুধু ধুলো, দূষণ বা স্কিনকেয়ারের অভাবেই হয় না— অনেক সময় এর পিছনে বড় কারণ হতে পারে খাদ্যাভ্যাস। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ভিতরের ভারসাম্য নষ্ট হলে তার প্রভাব সবচেয়ে আগে দেখা যায় ত্বকে। তাই বারবার ব্রণের সমস্যায় ভুগলে শুধু ক্রিম নয়, নজর দিতে হবে প্রতিদিনের খাবারের তালিকাতেও।
ত্বক ভালো রাখতে প্রথমেই নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার। এই ধরনের খাবারে থাকা রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায়। এর ফলে শরীরে সিবাম বা অতিরিক্ত তেল উৎপাদন হতে পারে, যা রোমকূপ বন্ধ করে ব্রণ বাড়াতে পারে।


আম কি সত্যিই ব্রণের কারণ?
অনেকের ধারণা আম খেলে শরীর ‘গরম’ হয় এবং সেখান থেকেই ব্রণ বেরোয়। বাস্তবে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। আমের গ্লাইসেমিক লোড তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রক্তে ইনসুলিনের ওঠানামা বাড়তে পারে, যা ত্বকের তেল উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রেই এমন হয় না— পরিমাণ ও ব্যক্তিভেদে প্রভাব আলাদা হতে পারে।
তেল-মশলাদার খাবারেও বাড়তে পারে সমস্যা
অতিরিক্ত ভাজাভুজি বা ঝাল-মশলাদার খাবার নিয়মিত খেলে শরীরে প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। গরমের দিনে বেশি ঘাম ও ত্বকের অস্বস্তির কারণে ব্রণ আরও চোখে পড়তে পারে।
দুগ্ধজাত খাবার নিয়েও সতর্কতা
কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দুধ বা নির্দিষ্ট দুগ্ধজাত খাবার ব্রণের প্রবণতা বাড়াতে পারে। এর কারণ হতে পারে হরমোন ও ইনসুলিন প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তন। তবে সবার জন্য দুগ্ধজাত খাবার বাদ দেওয়া প্রয়োজন হয় না।


ফাস্ট ফুডের প্রভাবও কম নয়
বার্গার, পিজ়া, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা ফ্যাট ও উচ্চ ক্যালোরি শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে। ফলে ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চকোলেট নিয়েও কী বলছে গবেষণা?
চকোলেট খেলেই ব্রণ হয়— এমন প্রমাণ একেবারে নিশ্চিত নয়। তবে অতিরিক্ত চিনি ও কিছু ধরনের প্রসেসড চকোলেট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণ বাড়াতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
শুধু কিছু খাবার কমালেই হবে না— পর্যাপ্ত জল খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসও ত্বক ভালো রাখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ব্রণ থাকলে বা হঠাৎ বেড়ে গেলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



