এসি–কুলার ছাড়াই মিলবে স্বস্তি! গরমে শরীর ও ঘর ঠান্ডা রাখার পুরনো ৮ উপায় ফের ভাইরাল

এসি বা কুলার ছাড়াও গরমে আরাম পাওয়া সম্ভব। খসখসের পর্দা, মাটির কলসির জল, ঘোল ও আম পান্নার মতো দেশজ উপায় আজও সমান জনপ্রিয়।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তীব্র গরমে এসি বা কুলার ছাড়া টিকে থাকা যেন কঠিন হয়ে উঠেছে। কিন্তু একসময় বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্র ছাড়াই মানুষ গরম সামলাতেন সহজ কিছু দেশজ উপায়ে। আজও সেই পদ্ধতিগুলোর অনেকগুলো পরিবেশবান্ধব, কম খরচের এবং দৈনন্দিন জীবনে কার্যকর হতে পারে। ঘর ঠান্ডা রাখা থেকে শরীরকে সতেজ রাখা— কয়েকটি পুরনো অভ্যাস এখনও সমান প্রাসঙ্গিক।

১. খসখসের পর্দা: ঘরে আনুন প্রাকৃতিক শীতলতা
দরজা বা জানলায় খসখসের পর্দা ঝোলানোর চল বহু পুরনো। পর্দায় হালকা জল ছিটিয়ে দিলে বাতাসের সঙ্গে আর্দ্রতা মিশে ঘর তুলনামূলক আরামদায়ক অনুভূত হতে পারে। সঙ্গে থাকে হালকা প্রাকৃতিক সুগন্ধও।

২. ফ্রিজ নয়, ভরসা হোক মাটির কলসির জল
গরমে অতিরিক্ত ঠান্ডা জল অনেকের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। মাটির কলসি বা মটকার জল স্বাভাবিকভাবে কিছুটা ঠান্ডা থাকে এবং ধীরে ধীরে শরীরকে আরাম দেয়।

৩. চন্দনের শীতল স্পর্শ
গরমে ত্বকে জ্বালাভাব বা অস্বস্তি হলে অনেকেই চন্দনের প্রলেপ ব্যবহার করেন। ত্বকে ব্যবহার করার আগে অ্যালার্জি আছে কি না পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

৪. মাটির বাড়ির পুরনো বিজ্ঞান
গ্রামীণ এলাকায় মাটির ঘর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকার অন্যতম কারণ তার প্রাকৃতিক তাপ নিরোধক বৈশিষ্ট্য। তবে গোবরের প্রলেপ ব্যবহারের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

৫. প্রতিদিনের ডায়েটে রাখুন ঘোল বা বাটারমিল্ক
গরমে শরীর থেকে জল ও লবণ বেরিয়ে যায় দ্রুত। ঘোল বা বাটারমিল্ক শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং হালকা অনুভূতি দেয়।

৬. রাতের ঠান্ডা হাওয়ার ব্যবহার করুন
আগেকার দিনে খোলা বারান্দা বা ছাদে ঘুমানোর অভ্যাস ছিল। আজকের দিনে নিরাপত্তা ও আবহাওয়ার বিষয় মাথায় রেখে রাতে ঘরের বাতাস চলাচল ঠিক রাখলেও উপকার মিলতে পারে।

৭. আম পান্না: গরমের দেশি এনার্জি ড্রিংক
কাঁচা আম দিয়ে তৈরি আম পান্না গরমের জনপ্রিয় পানীয়। এতে শরীরে তরল ও স্বাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে সুবিধা হতে পারে।

৮. ছাদে সাদা প্রলেপের কৌশল
অনেক জায়গায় ছাদে সাদা রং বা প্রতিফলক কোটিং ব্যবহার করা হয়, যাতে সূর্যের তাপ কম শোষিত হয়। এতে ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

গরমে আরাম পেতে সবসময় দামি যন্ত্রের উপর নির্ভর করতে হয় না। দৈনন্দিন কিছু ছোট অভ্যাস— পর্যাপ্ত জলপান, হালকা খাবার, ঘর বাতাস চলাচলের উপযোগী রাখা এবং দেশজ পদ্ধতির বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার— গরমের কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর