বাজারে লাল টুকটুকে, চকচকে আপেল দেখলে কিনতেই ইচ্ছে করে। কিন্তু সব সময় এই উজ্জ্বলতা প্রাকৃতিক নয়। ফল দীর্ঘদিন টাটকা দেখাতে অনেক সময় খাদ্যমান-অনুমোদিত ওয়াক্স কোটিং ব্যবহার করা হয়। তবে অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত প্রলেপ থাকলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাই আপেল কেনা ও খাওয়ার আগে কয়েকটি সহজ বিষয় খেয়াল রাখলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি— সব মোম ক্ষতিকর নয়। অনেক দেশে ফল সংরক্ষণের জন্য খাদ্যমান অনুমোদিত ওয়াক্স ব্যবহার করা হয়। তাই শুধু চকচকে হলেই আপেল ক্ষতিকর— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।
১) আপেলের গায়ে হালকা ঘষে দেখুন
হাতে নিয়ে আপেলের গা আলতো করে ঘষুন। যদি খুব পিচ্ছিল বা অস্বাভাবিক মসৃণ অনুভূতি হয়, তাহলে সেটি পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। তবে হাতে সাদা দাগ পড়লেই তা ক্ষতিকর কেমিক্যাল— এমন নয়।
২) হালকা গরম জলে ধুয়ে নিন
একটি পাত্রে ঈষদুষ্ণ জল নিয়ে কয়েক মিনিট আপেল ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পরিষ্কার কাপড় বা ব্রাশ দিয়ে আলতো করে ঘষে ধুয়ে নিন। এতে বাইরের স্তরে থাকা ধুলো, মোম বা অবশিষ্টাংশ কিছুটা কমতে পারে।


৩) বেকিং সোডা দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন
পরিষ্কার জলে অল্প বেকিং সোডা মিশিয়ে কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ফলের পৃষ্ঠে থাকা কিছু অবশিষ্ট উপাদান কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৪) গন্ধ লক্ষ্য করুন
স্বাভাবিক আপেলের সাধারণত হালকা ফলের সুবাস থাকে। যদি একেবারে গন্ধহীন লাগে বা অস্বাভাবিক রাসায়নিক গন্ধ পান, তাহলে অন্য ফল বেছে নেওয়াই ভালো।


৫) কেনার আগে খোসা দেখে নিন
অতিরিক্ত একরকম চকচকে, দাগহীন ও অস্বাভাবিক মসৃণ ফল সবসময় ভালো মানের হবে— এমন নয়। প্রাকৃতিক ফলের গায়ে হালকা দাগ বা রঙের তারতম্য থাকতেই পারে।
৬) ভিনিগার মেশানো জল ব্যবহার করতে পারেন
এক লিটার জলে সামান্য ভিনিগার মিশিয়ে কয়েক মিনিট ফল ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নিলে বাইরের স্তর পরিষ্কার হতে সাহায্য করতে পারে।
৭) সন্দেহ থাকলে খোসা ছাড়িয়ে খান
যাঁদের ছোট শিশু, বয়স্ক বা সংবেদনশীল পেট রয়েছে, তাঁরা প্রয়োজনে খোসা ছাড়িয়ে খেতে পারেন। তবে খোসায়ও পুষ্টিগুণ থাকে— তাই আগে ভালোভাবে ধোয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ফল কেনার সময় শুধু রং বা উজ্জ্বলতা নয়, উৎস, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও পরিষ্কার করার অভ্যাস— সবটাই সমান জরুরি। একটু সচেতন থাকলেই পরিবারের খাবার আরও নিরাপদ রাখা সম্ভব।



