প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল (West Bengal State University)। মঙ্গলবার পুলিশের উপস্থিতিতে হস্টেলে ঢুকে প্রয়োজনীয় নথি, জামাকাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে বেরিয়ে এলেন আবাসিক ছাত্ররা। হস্টেল বন্ধ থাকায় দূরের জেলার পড়ুয়াদের বাড়ি থেকে যাতায়াত কিংবা অতিরিক্ত খরচে মেসে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কবে ফের হস্টেলের দরজা খুলবে, তা এখনও নির্দিষ্ট নয়।
আগস্টে রাখি বন্ধন উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এবিভিপি (ABVP) এবং টিএমসিপি (TMCP)-র ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পাশাপাশি বয়েজ হস্টেলে ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে আসে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আবাসিকদের হস্টেল ছাড়তে হয়।
তারপর থেকেই কার্যত তালাবন্ধ বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল। সেখানে প্রায় ৪০ জন ছাত্র থাকতেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছেন। হস্টেল বন্ধ থাকায় নিয়মিত যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময় ও খরচ—দুই-ই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পড়ুয়ারা।
কেউ দীর্ঘ পথ পেরিয়ে প্রতিদিন বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন। আবার অনেককে থাকতে হচ্ছে স্থানীয় মেসে। ফলে হস্টেল দ্রুত চালুর দাবি উঠলেও এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও দিনক্ষণ জানানো হয়নি। মঙ্গলবার অবশ্য আবাসিকদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
দত্তপুকুর থানার পুলিশের উপস্থিতিতে এদিন হস্টেলে প্রবেশ করেন আবাসিকরা। নিজেদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করে তাঁরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। দীর্ঘদিন হস্টেল বন্ধ থাকায় পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ছাত্র।
এক আবাসিকের কথায়, হস্টেল চালু থাকলে দূরের পড়ুয়াদের জন্য অনেকটাই সুবিধা হত। এখন হয় বাড়ি থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, নয়তো মেসে থাকার জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। মঙ্গলবার অন্তত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার সুযোগ মিলেছে, কিন্তু হস্টেল ফের কবে খুলবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।
তবে ছাত্ররা নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসায় হস্টেল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই স্পষ্ট করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বক্তব্য, কিছু আবাসিক প্রয়োজনীয় নথি ও সামগ্রী সংগ্রহের জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁদের হস্টেলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দেবব্রত মিত্র জানিয়েছেন, হস্টেলে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ চলছে। সেই কাজ শেষ হলেই ফের আবাসিকদের জন্য হস্টেল খুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ মঙ্গলবার পড়ুয়াদের জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসার ঘটনাকে হস্টেল স্থায়ী ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এখন মূল প্রশ্ন, সংস্কারের কাজ কবে শেষ হবে এবং ঠিক কবে থেকে ফের আবাসিক ছাত্রদের জন্য হস্টেলের দরজা খুলবে। সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি, হস্টেলের ক্ষয়ক্ষতি মেরামত এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি—সবকিছু শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। ফলে আপাতত হস্টেল খোলার নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষাতেই রয়েছেন বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক পড়ুয়ারা।



