দিনভর কাজের শেষে রাতে ঘুম আমাদের শরীর ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়। কিন্তু ঘুমোতে যাওয়ার আগে কিছু সাধারণ অভ্যাস অজান্তেই হৃদ্যন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই ভুলগুলি চলতে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এমনকি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই রাত জাগা, অনিয়মিত খাবার বা অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের মতো অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু গবেষণা বলছে, ঘুমের আগে মাত্র কয়েকটি ভুল অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দকে নষ্ট করে দেয়। ফলে হৃদ্যন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
তাই সুস্থ থাকতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই ৫টি ভুল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
১. রাতের খাবার খেয়েই বিছানায় চলে যাওয়া
অনেকেই রাতের খাবার শেষ করেই ঘুমোতে চলে যান। এতে খাবার ঠিকমতো হজম হওয়ার সুযোগ পায় না। হজম প্রক্রিয়া চলাকালীন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ সক্রিয় থাকে, ফলে হৃদ্যন্ত্রের উপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার খাওয়ার অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরে ঘুমোতে যাওয়া উচিত। এতে হজম ভালো হয় এবং অ্যাসিডিটির সমস্যাও কমে।
২. ঘুমের আগে অতিরিক্ত মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার
মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপের নীল আলো মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের গুণমানও খারাপ হয়।
দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব উচ্চ রক্তচাপ, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ঘুমের অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
৩. রাতের বেলা অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার খাওয়া
চিপস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার অনেকেই রাতে খেয়ে থাকেন। কিন্তু এই ধরনের খাবার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে এবং হৃদ্যন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। যাঁদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের জন্য এই অভ্যাস আরও বিপজ্জনক হতে পারে।
৪. মানসিক চাপ নিয়ে ঘুমোতে যাওয়া
অফিসের কাজ, আর্থিক চিন্তা বা পারিবারিক সমস্যা নিয়ে অনেকেই বিছানায় যান। এতে শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়।
কর্টিসল বেশি থাকলে হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপ দুটোই বাড়তে পারে। নিয়মিত এমন হলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ঘুমের আগে বই পড়া, ধ্যান বা হালকা সঙ্গীত শোনা উপকারী হতে পারে।
৫. রাত জেগে থাকা
রাতে দেরি করে ঘুমোলে শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ঘড়ি বিঘ্নিত হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত রাত জাগা মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং হৃদরোগের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।
বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে শুধু ওষুধ বা চিকিৎসাই যথেষ্ট নয়। জীবনযাত্রার ছোট ছোট পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ঘুমের আগে সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললে হৃদ্যন্ত্র দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।
নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।



