চিকিৎসার খরচ কমাতে সরকারি হাসপাতালগুলিতে আরও সাশ্রয়ী ওষুধের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ১৬টি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে রোগীরা তুলনামূলক কম দামে মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ কেনার সুযোগ পেতে পারেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দপ্তর সূত্রে খবর, কেন্দ্রগুলি চালু করা, পরিষেবা পরিচালনা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সামলাতে বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্ধারিত মান পূরণ করতে পারবে, এমন সংস্থাকে বেছে নিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের মধ্যে জনঔষধি কেন্দ্র চালানোর জন্য বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের পথে হাঁটছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এই ব্যবস্থায় কেন্দ্রগুলির পরিচালনা, পরিষেবা দেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্দিষ্ট শর্ত মেনে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, যোগ্য সংস্থা বেছে নিতে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে কোন সংস্থা দায়িত্ব পাবে, কবে কেন্দ্রগুলি চালু হবে এবং প্রতিটি হাসপাতালে ঠিক কীভাবে পরিষেবা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ পৌঁছে দেওয়া। সরকারি হাসপাতালগুলিতে এই কেন্দ্র চালু হলে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষত দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ খেতে হয়, এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের খরচ পরিবারের মাসিক ব্যয়ের একটি বড় অংশ হয়ে উঠতে পারে। জনঔষধি কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া গেলে তাঁদের আর্থিক চাপ কমতে পারে।
তবে সব ওষুধ এই কেন্দ্রগুলিতে পাওয়া যাবে কি না, নির্দিষ্ট কোনও ওষুধের দাম কত হবে কিংবা কোন কোন ওষুধের স্টক থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই সমস্ত ওষুধ বিনামূল্যে মিলবে, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। জনঔষধি কেন্দ্রের সুবিধা মূলত সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ কেনার সুযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রথম পর্যায়ে কলকাতার ১১টি সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে জনঔষধি কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকায় রয়েছে:
- আরজি কর নয়, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ
- নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (এনআরএস)
- ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এসএসকেএম)
- ইনস্টিটিউট অফ ডিজিজেস (আইডি)
- চিত্তরঞ্জন সেবা সদন
- লেডি ডাফরিন ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল
- শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল
- কলকাতা পুলিশ হাসপাতাল
- স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন
- ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ
- ড. আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ
এই হাসপাতালগুলিতে কেন্দ্রগুলি চালু হলে কলকাতার বিভিন্ন সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে আসা রোগীরা সাশ্রয়ী ওষুধ কেনার সুযোগ পেতে পারেন।
জনঔষধি কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের আরও পাঁচটি হাসপাতালকে এই উদ্যোগের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
তালিকায় রয়েছে নদিয়ার কল্যাণীর গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ, উত্তর ২৪ পরগনার সাগর দত্ত হাসপাতাল, পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাওড়ার উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।
এই হাসপাতালগুলিতে কেন্দ্র চালু হলে কলকাতার বাইরের রোগীদেরও সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি জায়গায় কম দামে জেনেরিক ওষুধ কেনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মান পূরণকারী বেসরকারি সংস্থাকে বেছে নিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর কেন্দ্রগুলি চালু করার কাজ এগোবে।
তবে কেন্দ্রগুলির উদ্বোধনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ, ওষুধের তালিকা, দাম এবং পরিষেবা শুরুর চূড়ান্ত সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে আপাতত এই উদ্যোগকে সরকারি হাসপাতালে সাশ্রয়ী ওষুধের পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হিসেবেই দেখা উচিত।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা বহু রোগীর ওষুধ কেনার খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এখন নজর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এবং নির্ধারিত হাসপাতালগুলিতে কেন্দ্রগুলি কবে থেকে চালু হয়, সেদিকে।




