নভেম্বরে ভোটের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, রিপাবলিকানদের গোহারা হারের ইঙ্গিত সমীক্ষায়!

New York Times–Siena সমীক্ষায় ট্রাম্পের কাজকর্মে ৫৯ শতাংশ ভোটারের অসন্তোষ, কংগ্রেসের ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ১১ পয়েন্টের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত—নির্বাচনের আগে চাপে রিপাবলিকানরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড়সড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাজকর্মে অনুমোদন জানিয়েছেন মাত্র ৩৬ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার। অন্যদিকে, ৫৯ শতাংশ ভোটারই তাঁর কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস (The New York Times) ও সিয়েনা কলেজের (Siena College) সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই ছবি। অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের জেরে নির্বাচনের আগে চাপে রিপাবলিকান পার্টি (Republican Party)।

১২ থেকে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে ৩,৪৯৪ জন সম্ভাব্য ভোটারের মতামত নিয়ে এই সমীক্ষা চালানো হয়। তাতে দেখা গিয়েছে, কংগ্রেসের নির্বাচনে নিজেদের এলাকার প্রার্থীদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের (Democratic Party) সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন ৫২ শতাংশ ভোটার। রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ, এই সমীক্ষায় ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান ১১ শতাংশ পয়েন্ট। নির্বাচনের আগে এই পরিসংখ্যান রিপাবলিকান শিবিরের উদ্বেগ বাড়ানোর পক্ষে যথেষ্ট।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে অর্থনীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ। সমীক্ষায় ৭৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট। জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণে তাঁর পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৬৯ শতাংশ। দেশের অর্থনীতি সামলানোর প্রশ্নে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে নেতিবাচক মত দিয়েছেন ৬৪ শতাংশ ভোটার। ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ যে রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলছে, সমীক্ষার ফল থেকে সেই ইঙ্গিত মিলছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধাক্কা দেওয়ার অন্যতম কারণ। এই সংঘাত সামলানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন ৬৫ শতাংশ ভোটার। বিদেশনীতি নিয়ে ক্ষোভের পাশাপাশি দেশের ভিতরে জীবনযাত্রার খরচের চাপ—দুইয়ের জেরেই তাঁর প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে বলে সমীক্ষার পরিসংখ্যান থেকে ধারণা করা যায়। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে অর্থনীতি ও জ্বালানির দাম নিয়ে ভোটারদের মনোভাব রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই সমীক্ষার ভিত্তিতে এখনই রিপাবলিকানদের নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয়ের কথা বলা যায় না। জনমত সমীক্ষা ভোটারদের মনোভাবের একটি ছবি তুলে ধরে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কত মানুষ ভোট দিতে যাচ্ছেন, কোন আসনে কী ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে এবং স্থানীয় ইস্যুগুলি কতটা প্রভাব ফেলছে—তার উপরও ফল নির্ভর করে। ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত থাকলেও ভোটের ফল প্রকাশের আগে রাজনৈতিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি নিশ্চিত নয়।

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তার উপর আগামী দু’বছরের আইন প্রণয়ন ও ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করবে। ফলে এই নির্বাচন শুধু স্থানীয় প্রার্থীদের লড়াই নয়, প্রেসিডেন্টের নেতৃত্ব ও নীতির উপর ভোটারদের মূল্যায়নেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

সমীক্ষার ফল রিপাবলিকানদের সামনে সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে। জীবনযাত্রার খরচ, জ্বালানির দাম এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ যদি ভোটের দিনও একই ভাবে বজায় থাকে, তবে একাধিক আসনে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধা পেতে পারেন। কিন্তু সেই অসন্তোষ কতটা ভোটে রূপান্তরিত হবে, শেষ পর্যন্ত কোন দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাবে—তার উত্তর মিলবে নির্বাচনের ফলেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর