মাঝআকাশে পাইলটকে ছুরি, 9/11-এর আশঙ্কা! ভারতীয় ক্যাপ্টেনের তৎপরতায় বাঁচল ১৮০ যাত্রী

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী Flydubai বিমানে মাঝআকাশে দুই পাইলটের ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। উড়ন্ত বিমানের ককপিটে এক পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ, আচমকা বিমানের উচ্চতা কমে যাওয়া এবং পরে ‘হাইজ্যাক’ সংক্রান্ত জরুরি সংকেত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলার দিক থেকেও তদন্ত করছে।

ঘটনাটি বুধবার Flydubai-র FZ1073 বিমানে। Boeing 737 MAX 8 বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে উড়েছিল। বিমানে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মাঝআকাশে আচমকাই ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষ শুরু হয় বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এরপর বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। যাত্রীদের বক্তব্যেও ককপিটের ভিতর থেকে চিৎকার শোনার কথা উঠে এসেছে। পরে ককপিটের দরজা খোলার পর রক্তাক্ত পরিস্থিতি দেখতে পান কয়েকজন যাত্রী বলে দাবি করা হয়েছে।

ককপিটে গোলমালের সময় বিমানটির গতিপথেও বড় পরিবর্তন দেখা যায়। FlightRadar24-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে সেটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। বিভিন্ন ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতা হারানোর কথা উঠে এসেছে।

এরপর বিমান থেকে প্রথমে 7700 জরুরি সংকেত এবং পরে 7500 কোড পাঠানো হয়। 7700 সাধারণ জরুরি পরিস্থিতি বোঝায়, আর 7500 ব্যবহার করা হয় বেআইনি হস্তক্ষেপ বা হাইজ্যাকের পরিস্থিতিতে। এই সংকেত পাওয়ার পর ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে ধরে নেয়। ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক (Tabuk) বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করার পর যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদ থাকার কথা জানানো হয়েছে। দুই পাইলটকেই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আক্রান্ত ক্যাপ্টেন ভারতীয় নাগরিক অথবা ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর পরিচয় নিয়ে সামান্য পার্থক্য রয়েছে—কোথাও তাঁকে ভারতীয় নাগরিক, আবার কোথাও ভারতীয় বংশোদ্ভূত বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য পাইলটকে ওমানের নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে পাইলটদের পূর্ণ পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ছুরির আঘাতের পরও ক্যাপ্টেন প্রতিরোধ চালিয়ে যান। কেবিন ক্রু এবং কয়েকজন যাত্রীও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের তৎপরতার কারণেই বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফেরানো সম্ভব হয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এই প্রশ্নটিই এখন তদন্তের কেন্দ্রে। ইজরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের একাংশের সন্দেহ, ঘটনাটি নিছক দুই পাইলটের মধ্যে বিবাদ ছিল না। বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গিয়ে বড় বিপর্যয় ঘটানোর কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমন সম্ভাবনা থেকেই ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলার দিক থেকেও দেখা হচ্ছে।

তবে এই মুহূর্তে 9/11-এর মতো হামলার পরিকল্পনা ছিল বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অন্য কিছু রিপোর্টে ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বা বিমানে ইচ্ছাকৃত বিপর্যয় ঘটানোর সম্ভাবনার সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ হামলার উদ্দেশ্য এবং পাইলটের প্রকৃত অভিপ্রায় নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করেছেন বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত এগিয়ে চলেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও Flydubai বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করে। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে মাঝআকাশের ওই আতঙ্কের পর আপাতত বড় প্রাণহানি এড়ানো গিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন