পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান F-16 ধাওয়া করে গুলি করে নামানো থেকে শুরু করে পাকিস্তানের হাতে বন্দিদশা—ভারতের সামরিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় নাম উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান (Abhinandan Varthaman)। সেই বীর বায়ুসেনা আধিকারিক এবার ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force) থেকে অবসর নিয়ে শুরু করলেন নতুন কর্মজীবন। জানা গিয়েছে, গোয়ার স্থানীয় বিমানসংস্থা FLY91-এ পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সেনার কনভয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)। ওই হামলায় ৪০ জনের বেশি জওয়ান শহিদ হন। এর ১২ দিন পর, ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটে জইশের ঘাঁটিতে আকাশপথে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা।
বালাকোটে হামলার পরদিনই ভারতীয় ভূখণ্ডে পালটা আক্রমণের চেষ্টা করে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান। সেই অভিযানে পাকিস্তানি F-16-কে ধাওয়া করেন তৎকালীন উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। নিজের MiG-21 Bison নিয়ে তিনি পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েন এবং একটি পাকিস্তানি F-16 ভূপাতিত করার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
তবে সেই অভিযানের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর তাঁর বিমান ভেঙে পড়ে এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে তাঁকে আটক করা হয়। প্রায় তিন দিন পাকিস্তানের হেফাজতে ছিলেন অভিনন্দন। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ভারত জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে পাকিস্তান তাঁকে মুক্তি দেয়।
ভারতে ফেরার পর অভিনন্দনকে বীর চক্রে সম্মানিত করা হয়। বায়ুসেনাতেও তাঁর পদোন্নতি হয়। ২০১৯ সালের সেই ঘটনার পর দীর্ঘ কয়েক বছর বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবার সেই অধ্যায়ের ইতি টেনে নতুন পেশাগত পথে পা রাখলেন এই বায়ুসেনা আধিকারিক।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরের আগস্টেই গোয়ার বিমানসংস্থা FLY91-এ পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন অভিনন্দন। সংস্থাটি ২০২৪ সালের মার্চে বাণিজ্যিক উড়ান শুরু করে। বর্তমানে তাদের বিমানবহরে ATR 72-600 মডেলের কয়েকটি বিমান রয়েছে।
বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান থেকে এবার যাত্রীবাহী বিমানের ককপিট—অভিনন্দন বর্তমানের কর্মজীবনে বড় পরিবর্তন হলেও আকাশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক থাকছে অটুট। ২০১৯-এর সেই ঐতিহাসিক অভিযানের সাত বছর পর তাঁর নতুন পেশাগত ইনিংস ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে দেশজুড়ে।



