এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (Aviation Turbine Fuel – ATF)-এর দামে বড় কাটছাঁট করল দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি। বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দরে লিটারপিছু ৫ টাকা কমেছে বিমান জ্বালানির দাম। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানির বাড়তি খরচে চাপে থাকা বিমান সংস্থাগুলির জন্য এই সিদ্ধান্তকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে—এর প্রভাব কি বিমান ভাড়াতেও পড়বে?
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য ATF-এর দাম লিটারপিছু ১১৫ টাকা থেকে কমে ১১০ টাকা হয়েছে। পাশাপাশি পাইকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও প্রতি কিলোলিটার ATF-এর দাম ১.১৫ লক্ষ টাকা থেকে কমিয়ে ১.১০ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি বিমান জ্বালানির দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছিল। সেই সময় জ্বালানির মূল্য ওঠানামার প্রভাব কমাতে একটি নির্দিষ্ট মূল্যব্যবস্থাও চালু করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন ফিক্সড প্রাইস সিস্টেম (Fixed Price System) অনুযায়ী, আগামী তিন বছর বিমান জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে বিমান সংস্থাগুলি আগাম জ্বালানি ব্যয়ের বিষয়ে নিশ্চিত পরিকল্পনা করতে পারবে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এখনও অব্যাহত। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া (West Asia)-র ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাজারে প্রভাব ফেলছে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ATF-এর দাম সংশোধন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ১ জুলাই থেকেই কেন্দ্র সরকার পেট্রোল, ডিজেল এবং বিমান জ্বালানির রপ্তানি শুল্কে কিছু পরিবর্তন করেছে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি হওয়া পেট্রোল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্কে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি।
একই দিনে বেসরকারি সংস্থা নায়ারা এনার্জি (Nayara Energy)-ও তাদের ৭,০০০-র বেশি পেট্রোল পাম্পে জ্বালানির দাম কমানোর ঘোষণা করেছে। নতুন দরে পেট্রলের দাম লিটারপিছু ৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৩ টাকা কমেছে। পাশাপাশি ১৯ কেজির বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দামও কমানো হয়েছে।
বিমান ভাড়া কি কমবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয়ের অন্যতম বড় অংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। ফলে ATF-এর দাম কমায় সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।
তবে বিমান ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত শুধু জ্বালানির দামের উপর নির্ভর করে না। যাত্রী চাহিদা, বিভিন্ন রুটে প্রতিযোগিতা, অপারেশনাল খরচ এবং বাজার পরিস্থিতির মতো একাধিক বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এখনই বিমান ভাড়া কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে জ্বালানির দাম কমায় ভবিষ্যতে বিমান ভাড়ায় কিছুটা স্বস্তি আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।






