দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপটে একদিনে নজির গড়ল বোলপুর। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শ্রীনিকেতন আবহাওয়া কেন্দ্রে ২৬২.৮ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। দীর্ঘদিনের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া এই বৃষ্টির পাশাপাশি কলকাতাতেও হয়েছে ১২৯.৮ মিমি বৃষ্টি। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিয়োরোলজি (IITM)-র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালের ২৯ জুলাইয়ের পর বোলপুরে ২৪ ঘণ্টায় এতটা বৃষ্টি হয়নি। ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিপাত তাই বিশেষ নজর কেড়েছে। এর আগে বীরভূমে একদিনে সর্বাধিক বৃষ্টির রেকর্ড ছিল ১৯৭৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরের ৩৪১.৮ মিমি এবং ১৯৮৯ সালের ২৯ জুলাইয়ের ২৬৫.৫ মিমি।
রাজ্যের অন্যান্য এলাকার তুলনায় কলকাতাতেও বৃষ্টির পরিমাণ ছিল যথেষ্ট বেশি। ওই ২৪ ঘণ্টায় মহানগরে ১২৯.৮ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। তালিকায় কলকাতার পর রয়েছে ব্যারাকপুর, সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ ১২০ মিমি। আসানসোলে ১১৫ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।
এদিকে যে সুস্পষ্ট নিম্নচাপের জেরে এই বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি বাংলা ছেড়ে বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের উপরে অবস্থান করছে। তবে স্থলভাগের দিকে সরে গেলেও নিম্নচাপটির শক্তি পুরোপুরি কমেনি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার ব্যাখ্যা, প্রথমে বীরভূম লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের মালভূমি অঞ্চলে নিম্নচাপটি কিছুটা আটকে যাওয়াতেই ওই এলাকায় অতি প্রবল বৃষ্টি হয়েছে।
নিম্নচাপ পশ্চিম দিকে সরে গেলেও তার প্রভাব দক্ষিণবঙ্গের উপর থেকে যায়। এর সঙ্গে সমুদ্র থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প টেনে নেওয়ার কারণে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রগর্ভ কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি হয়। ফলে প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি কলকাতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটেছে।
এর সঙ্গে আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হেলে রয়েছে। আবহবিদদের অনুমান, বৃহস্পতিবারের মধ্যে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্ত দুটিরই শক্তি কিছুটা কমতে পারে। ততক্ষণে নিম্নচাপটি পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থানও বৃষ্টির অনুকূলে রয়েছে। পাঞ্জাবের ভাটিন্ডা, রোহতক, হরদই, কানপুর হয়ে উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশে নিম্নচাপের কেন্দ্রের উপর দিয়ে অক্ষরেখাটি দিঘা হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত আরও একটি অক্ষরেখা রয়েছে।
এই একাধিক আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় জল জমা, নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়া এবং বজ্রপাতের মতো পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



