প্রাক্তন ক্লাবের বিরুদ্ধে গোল করতে পারলেন না রাফায়েল মেসি বাউলি। কিন্তু তাঁর পা থেকেই এল ম্যাচের একমাত্র গোলের পাস। বুধবার আইএফএ শিল্ডের গ্রুপ পর্বে ইস্টবেঙ্গলকে ০-১ গোলে হারাল পাঞ্জাব এফসি। দিয়েগো রাপোসোর গোলে জয় তুলে নিল পাঞ্জাব। তবে ম্যাচ হারলেও সেমিফাইনালের জায়গা আগেই নিশ্চিত করে রেখেছিল ইস্টবেঙ্গল।
২০২৪-২৫ মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে খেলেছিলেন ক্যামেরুনের স্ট্রাইকার মেসি বাউলি। লাল-হলুদ জার্সিতে প্রত্যাশামতো সাফল্য না পেলেও পাঞ্জাবের হয়ে আইএফএ শিল্ডে শুরু থেকেই ছন্দে রয়েছেন তিনি। ক্যালকাটা কাস্টমসের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে পাঞ্জাব ৭-০ গোলে জয় পেয়েছিল।
এদিন ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই নজরে ছিলেন মেসি। প্রান্ত বদলে আক্রমণ তৈরি করার চেষ্টা করেন তিনি। বাঁ পায়ের কার্লিং শটেও গোলের চেষ্টা করেছিলেন। ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ অবশ্য তাঁকে সরাসরি গোলের সুযোগ খুব বেশি দেয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর একটি ক্রসই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
ইস্টবেঙ্গলও এদিন শক্তিশালী একাদশ নিয়ে নেমেছিল। ক্রিস ইকনোমিডিস এবং দিয়েগো জ়িভুলিচকে প্রথম একাদশে রেখেছিলেন কোচ আন্তোনিও লোপেস হাবাস। পিভি বিষ্ণু, বিপিন সিং, জিকসন সিংদের মতো ফুটবলাররা ছিলেন পরিবর্ত হিসেবে।
প্রথমার্ধে দু’দলই গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ইকনোমিডিস ও রোহিত দানু কয়েকটি আক্রমণে নজর কাড়লেও শেষ পাস বা ফিনিশিংয়ে সাফল্য আসেনি। পাঞ্জাবও পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে।
ম্যাচের ৪১ মিনিটে আসে একমাত্র গোল। আক্রমণে উঠে আলফ্রেডের কাছ থেকে বল পাওয়ার পর মেসি বাউলি বক্সের ডান প্রান্ত থেকে ক্রস বাড়ান। অরক্ষিত অবস্থায় সেই বল পেয়ে জোরালো শটে গোল করেন ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড দিয়েগো রাপোসো। মেসি গোল না করেও হয়ে যান ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরাতে একাধিক পরিবর্তন করেন হাবাস। রোহিত দানুর জায়গায় মাঠে নামেন পিভি বিষ্ণু। পরে বিপিন সিং ও জিকসন সিংকেও আনা হয়। আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেও পাঞ্জাবের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল।
পাঞ্জাবের গোলরক্ষক অর্শদীপ সিংও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কয়েকটি সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। ম্যাচের শেষ দিকে পাঞ্জাব ১০ জনের হয়ে গেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। ইনজুরি টাইমে রেনিয়ারকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন নিখিল প্রভু। তবু সমতা ফেরাতে পারেনি লাল-হলুদ।
এই হারের ফলে গ্রুপের শীর্ষস্থান হাতছাড়া হল ইস্টবেঙ্গলের। তবে প্রথম ম্যাচে ক্যালকাটা কাস্টমসকে হারানোর সুবাদে সেমিফাইনালে ওঠা আগেই নিশ্চিত ছিল। পাঞ্জাবও কাস্টমসকে ৭-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল।
আইএফএ শিল্ডের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের সামনে রয়েছে নর্থইস্ট ইউনাইটেড। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে মোহনবাগান ও পাঞ্জাব এফসি। ফলে শিল্ডের শেষ চারে ফের কলকাতা ডার্বির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইস্টবেঙ্গলের কাছে অবশ্য এই ম্যাচের ফল হতাশাজনক। তবে নকআউট পর্বে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে হাবাসের দলের সামনে। অন্যদিকে পাঞ্জাবের হয়ে মেসি বাউলির দুর্দান্ত শুরু অব্যাহত রইল—প্রাক্তন ক্লাবের বিরুদ্ধে গোল না করেও তাঁর অ্যাসিস্টেই এল জয়।



