আইএসএলে লাল-হলুদের দাপট অব্যাহত। প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারানোর পর এ বার ইন্টার কাশীকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। শুক্রবার পুণের মাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে কার্যত দিশেহারা করে দিলেন আকে লোবা, দানি রামিরেজ়রা। জোড়া গোল করলেন লোবা। গোল পেলেন রামিরেজ়, পিভি বিষ্ণু এবং লুকাস জভোলিনস্কিও। পরপর দুই ম্যাচে ৯ গোল করে আইএসএলের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এল লাল-হলুদ ব্রিগেড।
শুক্রবার শ্রী শিব ছত্রপতি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে ইস্টবেঙ্গল। প্রতিপক্ষকে নিজেদের ছন্দে খেলতে দেওয়ার বদলে দ্রুত পাস, গতিময় আক্রমণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাসের দল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই চার গোল করে কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় লাল-হলুদ।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ডান দিক থেকে আক্রমণ গড়ে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে দুরন্ত ফিনিশে গোল করেন দানি রামিরেজ়। ইন্টার কাশীর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে তাঁর শট জালে জড়িয়ে যেতেই ম্যাচে প্রথম ধাক্কা খায় প্রতিপক্ষ।
এর পর ১৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান পিভি বিষ্ণু। আকে লোবার তৈরি করে দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন তিনি। দ্রুত প্রতি-আক্রমণে উঠে এসে ইন্টার কাশীর রক্ষণকে অস্বস্তিতে ফেলে দেন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা। শুরুতেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের উপর কর্তৃত্ব আরও বাড়িয়ে নেয় লাল-হলুদ।
২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন আকে লোবা। বক্সের মধ্যে দানি রামিরেজ়কে ফাউল করার ঘটনায় পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান লোবা। মরশুমে নিজের গোলের খাতা খোলার পাশাপাশি দলের জয়ের ভিতও আরও মজবুত করেন তিনি।
তবে ২৮ মিনিটে একটি আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমায় ইন্টার কাশী। ইস্টবেঙ্গলের লালচুংনুঙ্গার পা থেকে বল নিজেদের জালে ঢুকে যায়। স্কোরলাইন ৩-১ হতেই ম্যাচে ফেরার আশায় বুক বাঁধে প্রতিপক্ষ। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ইন্টার কাশী।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করেন লোবা। ৩৪ মিনিটে বিপিন সিংয়ের ক্রস থেকে হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। তাতেই পূর্ণ হয় তাঁর জোড়া গোল। বিরতির আগেই ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর পাশাপাশি ফুটবলারদের শারীরিক অবস্থার দিকেও নজর দেন কোচ হাবাস। গুরুত্বপূর্ণ কয়েক জন ফুটবলারকে তুলে নিয়ে বদলি নামান তিনি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে অযথা ঝুঁকি না নিয়ে খেলতে থাকে লাল-হলুদ। অন্যদিকে, ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেও ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ইন্টার কাশী।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে পঞ্চম গোলটি আসে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে। বদলি হিসেবে নামা লুকাস জভোলিনস্কি কাছ থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান। ক্রিস্টোফার ইকোনোমিডিসের বাড়ানো বল থেকে গোল করেন তিনি। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আইএসএলে এটি তাঁর প্রথম গোল। শেষ পর্যন্ত ৫-১ ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়।
এই জয়ের ফলে আইএসএলে দারুণ ছন্দে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ৪-০ জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৫-১ ব্যবধানে জয়। দুই ম্যাচে মোট ৯ গোল করেছে লাল-হলুদ, হজম করেছে মাত্র একটি। ছয় পয়েন্ট এবং দুর্দান্ত গোলপার্থক্য নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে তারা।
আকে লোবার জোড়া গোল যেমন দলের আক্রমণভাগের শক্তি তুলে ধরেছে, তেমনই রামিরেজ় ও বিষ্ণুর কার্যকরী ফিনিশিং এবং জভোলিনস্কির গোল ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের গভীরতা দেখিয়েছে। তবে মরশুমের শুরুতে এই ছন্দ ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরপর দুই ম্যাচে বড় জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াবে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘ লিগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে হাবাসের দলকে।
ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে এই দাপুটে জয়ের পর এ বার লাল-হলুদের সামনে মহাদেশীয় মঞ্চের চ্যালেঞ্জ। ২৭ অক্টোবর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে আল সিবের মুখোমুখি হওয়ার কথা ইস্টবেঙ্গলের। আইএসএলে গোলের ছন্দ ধরে রেখে সেই ম্যাচে নামতে পারলে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে বাড়তি সুবিধা পাবে দল।



