২২৬ রানের লক্ষ্য। শুরুটা বিধ্বংসী, মাঝের ওভারে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে ভারত, শেষ দিকে আবার পাল্টা আঘাত। নাটকীয় সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি ভারতেরই। সঞ্জু স্যামসন, শ্রেয়স আয়ার ও নমন ধীরের ব্যাটে ভর করে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতল ভারত। তবে ব্যাটারদের দাপটে ম্যাচ জিতলেও ভারতীয় বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতা ফের সামনে এল।
নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। দুই ওপেনারের ব্যাটে পাওয়ার প্লে-তেই রান উঠে যায় ৯৪। লকি ফার্গুসনের এক ওভারে ২২ রান তুলে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল ভারত। অভিষেক ১২ বলে ২৯ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে রান তোলার গতি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার।
কিন্তু নিউজিল্যান্ডের স্পিনাররা আক্রমণে আসতেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে। মিচেল স্যান্টনার ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পরপর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। ৩৩ বলে ৬৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে স্যান্টনারের বলে বোল্ড হন সঞ্জু। এরপর তিলক বর্মা ১১ বলে মাত্র ৬ রান করে ফিরে যান। পাঁচ নম্বরে নামা ঈশান কিশনও বড় শট খেলতে গিয়ে ১ রান করে আউট হন।
একসময় বিনা উইকেটে ৯৩ রান করা ভারত ১২২ রানে চার উইকেট হারিয়ে ফেলে। দ্রুত রান তোলার ছন্দ হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার নিউজিল্যান্ডের দিকে চলে যাচ্ছিল। সেখান থেকেই দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান শ্রেয়স আয়ার ও অক্ষর পটেল।
অক্ষর ১৪ বলে ২৪ রান করে দলকে গতি দেন। অন্যদিকে, পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করছিলেন শ্রেয়স। তাঁর লক্ষ্য ছিল শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থেকে দলকে জয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু শেষের দিকে ১২ বলে ১৬ রান বাকি থাকতে অযথা বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। ২৮ বলে ৪২ রান করে ফিরলেও ততক্ষণে ভারতের জয়ের ভিত তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
শেষ দিকে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন নমন ধীর। চাপের মুখে তাঁর ব্যাটিংয়ে কোনও জড়তা দেখা যায়নি। শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। ম্যাট হেনরির বলে চার ও ছক্কা মেরে দু’বল বাকি থাকতেই ম্যাচ শেষ করে দেন নমন। ১৫ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন তিনি। তাঁর ইনিংস ভারতের ব্যাটিং গভীরতার নতুন দিক তুলে ধরল।
এই জয়ের ফলে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নজির তৈরি হল। এর আগে ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০৯ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। সেই রেকর্ড ছাপিয়ে গেল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই জয়। তবে ব্যাটারদের সাফল্য সত্ত্বেও দলের সব সমস্যা মিটে গিয়েছে, এমনটা বলার উপায় নেই।
ভারতের বোলিং ছিল যথেষ্ট ব্যয়বহুল। চার বছর পর দলে ফিরে ভুবনেশ্বর কুমার নতুন বলে শুরুটা ভাল করলেও শেষ পর্যন্ত ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। চার ওভারে ৪৯ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি তিনি। অর্শদীপ সিংহ চার ওভারে দেন ৪৫ রান। ময়ঙ্ক যাদব ও নীতীশ রেড্ডি দু’জনেই ৪০ রান করে দেন। অক্ষর পটেলের চার ওভারে খরচ ৫৩ রান।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ফিন অ্যালেন ২৪ বলে ৪৫ রান করেন। গ্লেন ফিলিপ্স ৪০ বলে অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংস খেলে ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। ভারতের বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের একাধিক ভুলের সুযোগ নিয়ে বড় রান তোলে নিউজিল্যান্ড। ফিল্ডিংয়েও দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে। নিউজিল্যান্ডের পাঁচটি ক্যাচ ফেলা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য বড় খেসারত হয়ে দাঁড়ায়।
ভারতের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগের ম্যাচগুলিতে বল হাতে অবদান রাখা নমন ধীরকে এই ম্যাচে বোলিং করানো হয়নি। ফলে মাত্র পাঁচ জন বোলারকে ব্যবহার করতে হয় ভারতকে। রান আটকাতে না পারার পাশাপাশি সহজ ক্যাচ ও ফিল্ডিংয়ের ভুলও সমস্যায় ফেলেছে দলকে।
শেষ পর্যন্ত ব্যাটারদের অসাধারণ লড়াইয়ে জয় এসেছে ভারতের ঘরে। সঞ্জুর ঝোড়ো শুরু, শ্রেয়সের দায়িত্বশীল ইনিংস এবং নমনের বিধ্বংসী ফিনিশিং ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। কিন্তু ২২৬ রান দিয়ে ফেলার পর বোলিং বিভাগকে নিয়ে গৌতম গম্ভীরের চিন্তা যে থেকেই যাচ্ছে, তা এই ম্যাচের পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দিচ্ছে।



