রনজিতে দুরন্ত শামি, তবু টিম ইন্ডিয়ায় জায়গা নেই! কোন যুক্তি হাতিয়ার করলেন গম্ভীর

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজের দল ঘোষণা করেছে ভারত। তালিকায় নেই মহম্মদ শামি। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্সের পরেও ফিটনেস নিয়ে সংশয়ের খবর সামনে এসেছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ঘরোয়া ক্রিকেটে বল হাতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন মহম্মদ শামি। রনজি ট্রফিতে উইকেট পাচ্ছেন, ফিটনেস নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবও মাঠে নেমে দিতে চাইছেন বঙ্গ পেসার। তবু নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের আসন্ন টেস্ট সিরিজের দলে জায়গা হল না তাঁর। ১৬ অক্টোবর দল ঘোষণার পর ফের সামনে এসেছে শামির জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের প্রশ্ন। নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিউজিল্যান্ড সফরে ভারত দু’টি টেস্ট খেলবে। প্রথম ম্যাচ শুরু হবে ১৯ নভেম্বর ওয়েলিংটনে। দ্বিতীয় টেস্ট হবে ২৭ নভেম্বর থেকে ক্রাইস্টচার্চে। এই সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজ, আকাশ দীপ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ এবং অংশুল কাম্বোজের মতো পেসাররা। কিন্তু অভিজ্ঞ শামিকে রাখা হয়নি।

প্রশ্ন উঠছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার পরেও যদি শামির ফিটনেস নিয়ে সংশয় থাকে, তা হলে জাতীয় দলে ফেরার জন্য তাঁকে আর কী প্রমাণ করতে হবে?

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ক্রীড়া সাংবাদিকের এক্স পোস্টের উল্লেখ করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট শামির ফিটনেস নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তাঁদের সংশয়, দীর্ঘ স্পেলে নিয়মিত বল করার মতো অবস্থায় তিনি রয়েছেন কি না। সেই কারণেই নিউজিল্যান্ড সফরে তাঁকে দলে নেওয়া হয়নি বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে এই বক্তব্য নির্বাচক কমিটি বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা নয়। শামিকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে বিসিসিআইয়ের তরফে নির্দিষ্ট কোনও ফিটনেস-সংক্রান্ত বিবৃতি প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা এই তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

টেস্ট ক্রিকেটে একজন পেসারের ভূমিকা শুধু কয়েক ওভার বল করে উইকেট নেওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ স্পেল, পরপর একাধিক দিন বোলিং করা এবং ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজের গতি ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচকদের কথিত সংশয়ের কেন্দ্রে রয়েছে সেই সক্ষমতাই।

জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন শামি। গত মরশুমে বাংলার হয়ে রনজি ট্রফির সেমিফাইনালে আটটি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সাতটি ম্যাচে তাঁর উইকেটসংখ্যা ছিল ৩৭। বিজয় হাজারে ট্রফিতেও ১৫টি উইকেট নিয়েছিলেন বঙ্গ পেসার।

চলতি রনজি মরশুমেও বল হাতে নজর কেড়েছেন শামি। দিল্লির বিরুদ্ধে বাংলার হয়ে চার উইকেট নিয়ে মরশুম শুরু করেন তিনি। তাঁর এই পারফরম্যান্সের পর ফিটনেস এবং জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেট নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক টেস্টের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা—দু’টি বিষয় এক নয়। নির্বাচকেরা যদি দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হন, তা হলে শুধু উইকেটের সংখ্যা দিয়ে সেই সংশয় পুরোপুরি দূর হয় না। অন্যদিকে, নিয়মিত ম্যাচ খেলা এবং ভালো পারফরম্যান্সের পরেও শামির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেই মূল্যায়নের ভিত্তি কী, তা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা হতে পারে।

নিউজিল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে অভিজ্ঞ বুমরাহ ও সিরাজের পাশাপাশি রয়েছেন আকাশ দীপ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ এবং অংশুল কাম্বোজ। আকাশ দীপ দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফিরেছেন। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের নির্বাচন নিয়েও ফিটনেসের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এই পেস আক্রমণে শামির মতো অভিজ্ঞ বোলার থাকলে দলের বিকল্প বাড়তে পারত—এমন আলোচনা উঠতেই পারে। তবে নির্বাচকেরা কোন খেলোয়াড়কে কোন ভূমিকার জন্য বেছে নিয়েছেন, তার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে না থাকায় শামির বাদ পড়ার সিদ্ধান্তের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। শামির জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা চললেও তাঁর পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া কোনও পেসারকে ব্যর্থ ধরে নেওয়ার কারণ নেই। দল নির্বাচন নির্ভর করে বর্তমান ফর্ম, ফিটনেস, দলের প্রয়োজন এবং নির্বাচকদের মূল্যায়নের উপর। সেই মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা তথ্যের ভিত্তিতেই বিচার করা উচিত।

ফিটনেস নিয়ে প্রশ্নে কী বলেছিলেন শামি?

নিজের ফিটনেস ও ছন্দ নিয়ে ওঠা মন্তব্যের জবাবে শামি আগেও জানিয়েছেন, বাইরের আলোচনা নিয়ে তিনি বিশেষ চিন্তিত নন। মাঠে নামার সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম, কে কী বলছেন, তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে তিনি ক্রিকেট খেলতে চান এবং নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই জবাব দিতে চান।

শামির এই অবস্থানের সঙ্গে তাঁর ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সও আলোচনায় উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা কোনও ক্রিকেটারের কাছে ধারাবাহিক ম্যাচ খেলা এবং উইকেট নেওয়া প্রত্যাবর্তনের দাবিকে জোরালো করতে পারে। কিন্তু শেষ সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের হাতেই।

কবে ফিরতে পারেন মহম্মদ শামি?

এই মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে শামির খেলার সম্ভাবনা নেই, কারণ ঘোষিত দলে তাঁর নাম নেই। ভবিষ্যতে তাঁকে ফেরানো হবে কি না, তা নির্ভর করবে তাঁর ফিটনেস, ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা এবং নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের উপর।

শামির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন তাঁর দক্ষতা নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে টেস্ট ক্রিকেটের চাপ সামলানোর মতো শারীরিক প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচকদের মূল্যায়ন। সেই সংশয় দূর করতে তাঁকে আরও কতটা সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও জানা যায়নি।

রনজি ট্রফিতে উইকেট নিয়ে শামি নিজের দাবির পক্ষে পারফরম্যান্স তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, জাতীয় দলের দরজা আপাতত তাঁর জন্য বন্ধই রইল। ভবিষ্যতে নির্বাচকদের মূল্যায়ন বদলায় কি না, সেটাই এখন দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর