শিল্ড ফাইনালে ফের ডার্বি! কবে, কোথায়, কখন মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল?

পঞ্জাব এফসি ও নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। ৮ অক্টোবর যুবভারতীতে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ফের মুখোমুখি দুই কলকাতা প্রধান।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ডুরান্ড কাপের পর আবারও বড় ম্যাচ। এবার আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে কলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গল। বহু প্রতীক্ষার পর ফাইনালের দিন, সময় ও ভেন্যু ঘোষণা করল আইএফএ। ৮ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হবে দুই দল। ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে।

সোমবার নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ইস্টবেঙ্গল। তার আগেই পঞ্জাব এফসিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল মোহনবাগান। ফলে ডুরান্ড কাপ ফাইনালের পর ফের এক বার কলকাতা ডার্বি দেখতে চলেছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

আইএফএর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল হবে ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। ম্যাচের ভেন্যু বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। কিক-অফ সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে।

ম্যাচের টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাবে District by Zomato অ্যাপে। তবে টিকিটের দাম সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অর্থাৎ, ডুরান্ড কাপের ফাইনালের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল।

সেমিফাইনালে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ ছিল পঞ্জাব এফসি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়েও গোল হয়নি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় সবুজ-মেরুন শিবির।

অন্য দিকে, ইস্টবেঙ্গলের সামনে ছিল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। সেই ম্যাচে কার্যত গোলের বন্যা বইয়ে দেয় লাল-হলুদ। ৭-২ ব্যবধানে জয় পায় ইস্টবেঙ্গল।

ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন ডেভিড লালহলানসাঙ্গা। তাঁর পাশাপাশি গোল করেন রোহিত কুমার, ক্রিস ইকোনোমিডিস, আকে লোবা এবং লুকাস জভোলিনস্কি। নর্থইস্টের হয়ে দুটি গোল করেন আলাদিন আজারেই।

ফলে এক দিকে টাইব্রেকারে কঠিন লড়াই পেরিয়ে মোহনবাগান, অন্য দিকে ৭ গোলের দাপটে ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল। দুই দলের ফাইনাল-যাত্রার ছবিও একেবারেই আলাদা।

এ বারের আইএফএ শিল্ডের সূচি শুরু থেকেই বেশ জটিল ছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সূচির সঙ্গে সংঘাতের কারণে দুই প্রধানের একাধিক তারকা ফুটবলারকে সব ম্যাচে পাওয়া যাচ্ছে না। কলকাতায় ভারত-ব্রাজিল এবং ভারত-উরুগুয়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচও রয়েছে এই সময়ের মধ্যে।

এর পাশাপাশি ১০ অক্টোবর থেকেই শুরু হচ্ছে আইএসএল। অর্থাৎ শিল্ড ফাইনালের মাত্র দু’দিন পরেই নতুন মরশুমের লিগ অভিযান শুরু হবে।

মোহনবাগানের আইএসএল অভিযান শুরু হওয়ার কথা ১২ অক্টোবর। ফলে শিল্ড ফাইনালের পর সবুজ-মেরুনের হাতে প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় থাকছে না।

ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ব্যস্ত। ১৩ অক্টোবর এএফসি-র প্রতিযোগিতায় আল-শোর্তার বিরুদ্ধে ম্যাচ রয়েছে তাদের। ফলে শিল্ড ফাইনালের মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই লাল-হলুদকে নামতে হবে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।

প্রথমে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালের দিনক্ষণ ও ভেন্যু নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং কলকাতার একাধিক ফুটবল সূচির কারণে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল।

সেমিফাইনাল দু’টি কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজন করা হলেও কলকাতা ডার্বির মতো ম্যাচের জন্য বড় মাঠের প্রয়োজনীয়তা ছিল। আইএফএ-র পক্ষ থেকেও আগে বলা হয়েছিল, এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ কিশোর ভারতীতে আয়োজন করলে দর্শকসংখ্যা এবং নিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত দুই দল ফাইনালে পৌঁছনোর পর যুবভারতীকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। ফলে কলকাতা ডার্বির জন্য উপযুক্ত বড় মঞ্চও নিশ্চিত হল।

এ বারের মরশুমে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের লড়াই ইতিমধ্যেই একাধিক বার হয়েছে। ডুরান্ড কাপের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল জয় পেয়ে ট্রফি ঘরে তুলেছিল।

এ বার সেই লড়াইয়েরই আরেকটি অধ্যায় আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে। ফলে ৮ অক্টোবরের ম্যাচ শুধু একটি ট্রফির ফাইনাল নয়, দুই কলকাতা প্রধানের মধ্যে মরশুমের আরেকটি বড় ডার্বিও।

ফাইনালের আগে দুই দলেরই হাতে সময় কম। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতি, আইএসএলের সূচি এবং এএফসি প্রতিযোগিতার ব্যস্ততার মধ্যেই এই ম্যাচ খেলতে হবে। তার মধ্যেই যুবভারতীর বড় মঞ্চে কে শিল্ড ট্রফি হাতে তোলে, তার উত্তর মিলবে ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন