ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা SIR নিয়ে এবার আন্দোলন আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে ইন্ডিয়া জোট। মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করার পর এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ হতে চলেছেন বিরোধী নেতারা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে বিরোধী শিবির সূত্রে খবর।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং তৃণমূলের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন দলের সংসদীয় নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চান। ৭ থেকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের মূল অভিযোগ SIR এবং ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে। বিরোধী দলগুলির দাবি, এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অধিকার এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হল মৃত, ডুপ্লিকেট বা অযোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং যোগ্য ভোটারদের তালিকায় রাখা।
মঙ্গলবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করেন। নেতৃত্বে ছিলেন রাহুল গান্ধী, সঙ্গে ছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে, অখিলেশ যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। কমিশনের দফতরের দিকে এগোনোর পথে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এরপর সংসদীয় এলাকার কাছেই বিরোধী সাংসদরা ধর্নায় বসেন।
মিছিলের সময় রাহুল গান্ধীও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন। পরে বেশ কয়েকজন বিরোধী সাংসদকে পুলিশ আটক করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বেড়েছে।
তবে ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচিতে সব শরিক দলকে দেখা যায়নি। আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে মঙ্গলবারের মিছিল থেকে দূরে ছিল বলে একাধিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেডির অংশগ্রহণকে বিরোধী শিবিরের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে SIR এবং জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে একযোগে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরপর অক্টোবরের শুরু থেকেই দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করে বিরোধীরা।
ইন্ডিয়া জোটের পরিকল্পনা শুধু দিল্লির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ব্লক ও জেলা স্তরেও কর্মসূচি করার কথা জানানো হয়েছে। নভেম্বরের শুরুতে দিল্লিতে বড় জনসভা করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিরোধীদের লক্ষ্য, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নিজেদের অভিযোগকে আরও নিচুতলায় পৌঁছে দেওয়া এবং বিষয়টিকে জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করা।
জানা যাচ্ছে, আগামী দিনে দেশের পাঁচটি বড় শহরে ভোটচুরি এবং SIR ইস্যুতে জনসভা করতে পারে ইন্ডিয়া জোট। নভেম্বরের শুরুতে দিল্লিতে বড় সমাবেশের পরিকল্পনাও রয়েছে। সেখানে জোটের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের একসঙ্গে মঞ্চে দেখা যেতে পারে।
ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের তরফে দেশজুড়ে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ ধরনের কর্মসূচির কথা সামনে আনা হয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগকে রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সামনে আনা হবে।
এখন নজর রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধী দলের সংসদীয় নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অভিযোগ জানাতে চাইছেন। ৭ থেকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে সময় চাওয়া হয়েছে বলে বিরোধী শিবিরের তরফে জানা গিয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিকে সামনে রেখে ইন্ডিয়া জোটের এই ধারাবাহিক কর্মসূচি আগামী দিনগুলিতে আরও তীব্র হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। তবে বিরোধীদের অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের অবস্থান—দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই SIR বিতর্ক যে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে, মঙ্গলবারের ঘটনাপ্রবাহে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।



