নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR নিয়ে বিরোধী দলগুলির আপত্তির মধ্যেই দিল্লিতে বৈঠকে বসল INDIA জোট। বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি সামনে রেখে একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। একই দাবি নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর খাড়গে জানান, ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ ব্যানারে যৌথ মিছিল ও কর্মসূচি হবে। ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদরা একসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করবেন। বিরোধী দলগুলির নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও দেখা করার কর্মসূচি নিয়েছেন।
এছাড়াও ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগকে সামনে রেখে দেশের পাঁচটি বড় শহরে জনসভা এবং ১ নভেম্বর দিল্লিতে একটি বড় সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়গুলি তুলে ধরার কথাও জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা।
বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার দায় নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিতে হবে। তিনি বলেন, তাঁদের ‘ওয়ান পয়েন্ট এজেন্ডা’ হল জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।
এর আগেও SIR নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতা। গত কয়েকদিনে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।
তবে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং জ্ঞানেশ কুমার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে সব শরিক দল উপস্থিত ছিল না। আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে বৈঠকে যোগ দেয়নি। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বলে আগেই জানানো হয়েছিল; তাঁর দলের প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেন।
ডিএমকে-র বৈঠক বয়কটের পিছনে কংগ্রেসের সঙ্গে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে মতপার্থক্যের কথা দলের তরফে জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে অখিলেশ যাদবের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে তাঁর দলের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকের মূল আলোচনায় ছিল SIR, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। বিরোধী দলগুলি দাবি করছে, সংশোধিত তালিকার আগে তৈরি ভোটার তালিকা ব্যবহার করা হোক এবং বাদ পড়া ভোটারদের তথ্য ও আপিলের সুযোগ দেওয়া হোক। খাড়গে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতার দাবিও জানিয়েছেন।
এই বৈঠকের পর বিরোধী দলগুলির আন্দোলন এখন জাতীয় স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ২ অক্টোবর থেকে জেলা স্তরের কর্মসূচি এবং ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন অভিযান ঘিরে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপরেখাও স্পষ্ট হয়েছে। ১ নভেম্বর দিল্লির সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা অংশ নিতে পারেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে বিরোধীদের এই যৌথ কর্মসূচি কতটা বিস্তৃত হয়, এখন সেই দিকেই নজর। একই সঙ্গে SIR এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে কমিশনের অবস্থান কী হয়, সেটিও রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।



