ডানকুনি টোলপ্লাজার কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ। বাঁকুড়ার সোনামুখিতে দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়িতে পিছন থেকে ধাক্কা মারে একটি লরি। ধাক্কার পর বেশ কিছুটা রাস্তা গাড়িটিকে ঠেলে নিয়ে যায় লরিটি। গাড়িতে থাকা চারজনের কেউই আহত হননি বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর ডানকুনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন শতরূপ।
দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে কলকাতা থেকে সোনামুখীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শতরূপ ঘোষ। দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ তাঁর গাড়ি ডানকুনি টোলপ্লাজা পার করে বর্ধমানমুখী লেনে এগোচ্ছিল। সেই সময়ই একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁর গাড়ির পিছনে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ।
ধাক্কার অভিঘাতে গাড়িটির বাঁদিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু ধাক্কা মেরেই থামেনি লরিটি, বেশ কিছুটা দূর পর্যন্ত গাড়িটিকে ঠেলে নিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার সময় শতরূপের গাড়িতে মোট চারজন ছিলেন। তাঁদের কারও আঘাত লাগেনি।
ঘটনার পরই ডানকুনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সিপিআইএম নেতা। পুলিশ লরিটিকে আটক করেছে। লরিচালকের বক্তব্য, তিন দিন লকআপে থাকার পর ট্রাকটি থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি নিয়ে ফেরার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে গোটা ঘটনাকে শুধুমাত্র দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন না শতরূপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় রয়েছে, তা পুলিশকে খতিয়ে দেখতে হবে। অর্থাৎ ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০২৩ সালেও গাড়ি দুর্ঘটনার ঘটনায় অভিযোগ করেছিলেন শতরূপ ঘোষ। আলিপুর রোডের একটি সিগন্যালে তাঁর গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার সময় পিছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ ছিল। সেই ঘটনায় গাড়ির সামনের অংশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সেই সময় শতরূপের অভিযোগ ছিল, যে গাড়িটি তাঁর গাড়িতে ধাক্কা মেরেছিল সেটি আইপিএস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, ওয়েস্ট বেঙ্গলের গাড়ি। ধাক্কার পর ওই গাড়ির চালক তাঁর পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। পরে আলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সিপিআইএম নেতা।
দু’টি ঘটনাই আলাদা সময়ের এবং আলাদা জায়গায় ঘটেছে। ডানকুনির সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ লরি আটক করে তদন্ত শুরু করেছে। শতরূপ ঘোষের গাড়িতে থাকা চারজনই আপাতত নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।



