তিন সেঞ্চুরিতে ৪০০ পার! নবিদের পিটিয়ে ভারতের সামনে ৪০৬ রানের লক্ষ্য

গুয়াহাটিতে জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ ও আমির জাঙ্গুর শতরানে ৪০৫ রান করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিততে ভারতের প্রয়োজন ৪০৬ রান।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বুধবার গুয়াহাটির বারসাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যত দাপট দেখাল ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। এক ইনিংসেই তিনটি শতরান এল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাট থেকে। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৪০৫ রান তুলল তারা। ফলে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিততে ভারতের সামনে ৪০৬ রানের লক্ষ্য।

টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক শুভমন গিল। একাদশে একমাত্র পরিবর্তন ছিল আকিব নবীর অভিষেক। জম্মু-কাশ্মীরের এই পেস অলরাউন্ডার ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। কিন্তু অভিষেকটা মোটেই স্মরণীয় হল না তাঁর। ৮.৫ ওভার বল করে ৮৪ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ তৈরি হয়। জন ক্যাম্পবেল আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে মাত্র ৬৮ বলে ১০১ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ন’টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। শুরুতেই ক্যারিবীয়দের রানের গতি বাড়িয়ে দেন তিনি।

ক্যাম্পবেল ফেরার পরেও থামেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানযাত্রা। অধিনায়ক শাই হোপ দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেন এবং ৯৪ বলে ১০৪ রানের ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে আটটি চার ও তিনটি ছক্কা। এই শতরানটি তাঁর ওয়ানডে কেরিয়ারের ২০তম সেঞ্চুরি।

শেষ দিকে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন আমির জাঙ্গু। মাত্র ৭৭ বলে ১১৪ রান করে ভারতীয় বোলারদের উপর পালটা চাপ তৈরি করেন তিনি। ১৩টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চারশোর গণ্ডি পার করানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

অর্থাৎ একই ইনিংসে ক্যাম্পবেল, হোপ এবং জাঙ্গু—তিন ব্যাটারের শতরান। ভারতের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন ব্যাটিং পারফরম্যান্সই যে ম্যাচের ছবিটা বদলে দিয়েছে, তা স্কোরবোর্ডেই স্পষ্ট।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে অবশ্য একটি ব্যক্তিগত মাইলফলক এসেছে কুলদীপ যাদবের হাত ধরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক হোপকে আউট করার পাশাপাশি ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। তবে ১০ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে ২ উইকেটে শেষ করেন কুলদীপ।

রবীন্দ্র জাদেজাও দুটি উইকেট নেন, কিন্তু ১০ ওভারে খরচ করেন ৭৫ রান। ভারতীয় পেসারদেরও রানের গতি থামাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। অভিষেককারী আকিব নবীর ৮.৫ ওভারে ৮৪ রান খরচ হওয়ায় চাপ আরও বেড়ে যায়।

এর মধ্যেই ভারতীয় শিবিরে উদ্বেগ তৈরি হয় নমন ধীরকে ঘিরে। বল করার সময় বাঁ পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। চোট কতটা গুরুতর, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।

শেষের দিকে ভারতীয় বোলাররা কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান কিছুটা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ৪০ ওভার পেরোনোর পর পাঁচটি উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। কিন্তু ততক্ষণে বড় রানের ভিত তৈরি হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৪০৫/৭—ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ ওয়ানডে দলীয় স্কোরও এটাই।

প্রথম ম্যাচে ২৯৫ রান করেও ভারতের কাছে আট উইকেটে হেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিরাট কোহলি ১৩৯ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং সেই ম্যাচেই ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করেন। এবার তাঁর সামনেই আরও কঠিন পরীক্ষা।

গুয়াহাটিতে তাই ভারতের লড়াই শুধু ম্যাচ জেতার নয়, ৪০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করারও। প্রথম ম্যাচে দুরন্ত ছন্দে থাকা কোহলি, শুভমন গিল এবং রোহিত শর্মার দিকে এখন স্বাভাবিকভাবেই নজর থাকবে। সিরিজে ১-০ এগিয়ে থাকা ভারত এই ম্যাচ জিতলে সিরিজও নিজেদের দখলে নেবে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে সিরিজ সমতায় ফেরার সুযোগ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন