আর সইতে হবে না জলযন্ত্রণা! ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

প্রতি বর্ষায় ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ জোরদার করার ঘোষণা। ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পর পুজোর পরে কাজ পুরোদমে শুরু করার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রতি বর্ষায় ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার সমস্যা মেটাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, প্রকল্পের জন্য রাজ্যের তরফে ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজের বড় অংশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

বীরসিংহে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে হেলিকপ্টার থেকে প্লাবিত ঘাটাল এলাকার পরিস্থিতিও পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি বলেন, এ বছরও বর্ষায় ঘাটালকে জলযন্ত্রণার মুখে পড়তে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবার বাস্তবায়নের দিকে এগোবে বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পের খরচের ৫০ শতাংশ কেন্দ্র এবং ৫০ শতাংশ রাজ্য বহন করবে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তরফেও অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। পুজোর পর প্রকল্পের কাজ আরও জোরদার করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ঘাটাল ও দাসপুরের বিধায়কদেরও প্রকল্পের কাজের দিকে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রতি বছর বর্ষায় যে পরিস্থিতির মুখে স্থানীয় বাসিন্দাদের পড়তে হয়, তা কমানোই মূল লক্ষ্য।

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান অবশ্য নতুন কোনও প্রকল্প নয়। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম মেদিনীপুর ও পূর্ব মেদিনীপুরের বন্যাপ্রবণ এলাকার স্থায়ী সমাধানের জন্য এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজের মধ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক নদী ও জলপথে পরিকাঠামোগত কাজের পরিকল্পনা রয়েছে।

ঘাটাল এলাকায় বারবার বন্যার অন্যতম কারণ হিসেবে স্থানীয় নদীগুলির জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়া, নদীতে পলি জমা এবং বাঁধের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করা হয়। শিলাবতী, কংসাবতী এবং দ্বারকেশ্বর নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এই এলাকায় বর্ষায় অতিরিক্ত জল নামলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।

আগে তৈরি হওয়া বাঁধগুলির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে পলি জমে জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ে। সেই কারণেই নদী সংস্কার, বাঁধ মেরামত এবং জলনিকাশির পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো কাজ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চলতি বছরের রাজ্য বাজেটেও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছিল। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দের পর কাজের গতি বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছিল।

এর মধ্যেই বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর নতুন সময়সীমার বার্তা ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতিকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং তার ফলে বন্যার সমস্যা কতটা কমে, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত কাজগুলি সময়মতো শেষ হওয়ার উপর।

এদিন শুধু ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নয়, নদীর ধারে থাকা কাঁচা বাড়িগুলি নিয়েও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমন বাড়ির তালিকা তৈরি করার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, চিহ্নিত প্রতিটি কাঁচা বাড়ির মালিককে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। দ্রুত সেই অর্থ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

ঘাটালের বাসিন্দাদের কাছে তাই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অগ্রগতি এখন গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ১২০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবে কত দ্রুত এগোয়, আগামী কয়েক মাসে সেটিই নজরে থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন