দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের মানুষ। প্রতি বছর বর্ষায় জলমগ্ন হয়ে পড়া বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে বহু বছরের সমস্যা মেটাতে এবার কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের ৩৪টি দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেখানে একাধিক প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও বিশেষ গুরুত্ব পায় ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান। বৈঠকে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে এবং ব্যয়ের বোঝা ৫০-৫০ শতাংশ হারে ভাগ করে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে আর্থিক কাঠামো ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘাটাল এবং সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় বর্ষা এলেই জল জমা, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। স্থানীয়দের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু ঘাটাল নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের একাধিক এলাকা স্থায়ীভাবে উপকৃত হতে পারে।
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে অতীতেও রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। পূর্বতন সরকার বারবার অভিযোগ করেছিল যে কেন্দ্রীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় প্রকল্প এগোয়নি। সেই সময় রাজ্যের তরফে নিজস্ব উদ্যোগে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল এবং প্রথম ধাপে অর্থ বরাদ্দও করা হয়।
তবে প্রকল্পের মোট ব্যয় তুলনামূলক অনেক বেশি হওয়ায় পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছিল। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সরকারকে আক্রমণ করেছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
এখন প্রশাসনিক বৈঠকের পর নতুন করে প্রকল্পের গতি বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। বহু বছরের জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তির আশায় তাই আবারও নজর ঘাটালের মানুষের।



