নজরবন্দি ব্যুরোঃ ১১ই ডিসেম্বর থেকে টিকাকরন শুরু আমেরিকায়, মে মাসের মধ্যেই পাবেন সব নাগরিক! চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট এসে গিয়েছে। ফাইজার জানিয়েছে তাদের তৈরি করোনা ভ্য়াকসিন ৯৫ শতাংশ কার্যকর। আর এই ট্রায়াল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে মার্কিন প্রশাসন। শুরুহয়েছে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি। শুক্রবার মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে টিকা প্রয়োগের অনুমোদনের জন্য আবেদন জানিয়েছিল ফাইজার (Pfizer) এবং বায়োএনটেক (BioNTech)।
আরও পড়ুনঃ বাড়িতে বসেই আবেদন করুন রঙিন Voter ID কার্ড, কিভাবে করবেন জেনেনিন পদ্ধতি
আর তারপরেই হোয়াইট হাউজের ভ্যাক্সিন চিফ মনসেফ স্লাউয়ি জানিয়েছেন সুখবর। তাঁর কথায়, “যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তবে ১১ এবং ১২ ডিসেম্বর প্রথমবার মার্কিন নাগরিকদের শরীরে ভ্যাক্সিনের প্রয়োগ করা হবে।” স্লাউয়ি এদিন আরও বলেন, টিকা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মদ্যেই অনুমোদন পেয়ে যাওয়ার কথা। তাঁর কথা অনুযায়ী, “যেদিন অনুমোদন পাবে, তার পরের দিন টিকাকরণ কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে। আর প্রয়োগ শুরু হয়ে যাবে। এখনও পর্যন্ত যা যা পরিকল্পনা হয়েছে, আমেরিকার সমস্ত নাগরিককে টিকা দিতে মে মাস পর্যন্ত সময় লাগবে।
১১ই ডিসেম্বর থেকে টিকাকরন শুরু আমেরিকায়, মে মাসের মধ্যেই পাবেন সব নাগরিক! আমেরিকার এই ঘোষণা সাফল্য় আশাল আলো জাগালো বলেই মনে করা হচ্ছে। ফাইজার ও জার্মানের বায়োএনটেক যৌথভাবে করোনার সম্ভাব্য় প্রতিষেধক তৈরি করছে। করোনা ভ্য়াকসিন তৈরিতে ক্লিনিক্য়াল ট্রায়ালে এই প্রথম কোনও সংস্থা এত বড় মাপের সাফল্য়ের মুখ দেখল। বুধবার ফাইজার জানিয়েছে ভ্যাকসিনটির তৃতীয় তথা শেষ দফা ট্রায়ালের চূড়ান্ত বিশ্লেষণের পথ পার করেছে। তাদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিনের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মোট ১৭০ জন স্বেচ্ছাসেবকের উপর এই টিকার তৃতীয় দফার ট্রায়াল চালানো হয়েছিল। ১৭০ জনের মধ্যে ১৬২ জনকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল। বাকি ৮ জনের উপর প্রয়োগ হয় ভ্যাকসিন। তারপরই জানানো হয়, ৯৫ শতাংশ কার্যকর তাদের টিকা। ওই আটজনের দেহে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি। ফাইজার জানিয়েছে সম্পূর্ণ নিরাপদ তাঁদের ভ্যাকসিন।
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ের রিপোর্টে ফাইজার জানিয়েছে, তাদের প্রতিষেধক ৯৫% কার্যকরী। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধদের শরীরেও ভাল কাজ দিচ্ছে এই টিকা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে তেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ওষুধপ্রস্তুতকারক সংস্থা মডার্নাও (Moderna) ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করে জানিয়েছে, তাদের টিকাও ৯৪.৫% কার্যকরী।
কিন্তু ভারতীয়দের কী হবে? ফাইজারেরএই সাফল্যে বিশ্বের শীতপ্রধান দেশ গুলি উৎসাহিত হলেও, আশার আলো দেখতে পাওয়া যাচ্ছেনা ভারতের জন্যে। ফাইজার জানিয়েছে তাঁদের ভ্যাকসিন কে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। তাই ভারতে এই ভ্যাকসিন ব্যাবহার করা কার্যত অসম্ভব।



