নজরবন্দি ব্যুরো: পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁর গুরুত্ব এবং দায়িত্ব কতটা ছিল একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু বিগত এক বছরে পরিস্থিতির বিশাল বদল ঘটেছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে মন্ত্রীত্ব ও দলের পদ হারিয়েছেন তিনি। আজ ২১ জুলাই, এই দিনের মঞ্চের গুরুদায়িত্ব পার্থকেই দিতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতবারেও তাঁকে সমাবেশে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৩-এ তৃণমূল থাকলেও দেখা যাবে না সেই চেনা মুখ পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।
আরও পড়ুন: ববিতার আর্জিতে হাইকোর্টের নির্দেশ, একাদশ-দ্বাদশের মেধাতালিকা প্রকাশ করল SSC
প্রতিবার সভা শুরুর আগে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চের যাবতীয় ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে আগে থেকেই সভাস্থলে যেতেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জানা যায়, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরেই ১১ টার মধ্যে ধর্মতলার শহীদ মঞ্চে পৌঁছে যেতেন তিনি। নাকতলায় তাঁর বাড়ির সামনেই সকাল থেকেই দলের পতাকা হাতে হাজির হয়ে যেতেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতেন পার্থ। শহীদ মঞ্চে যাতে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেদিকে নজর দিতেন। এখানেই শেষ নয়, দলের মহাসচিব হিসেবে মঞ্চ থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব থাকত তাঁর কাছে। ২০২২ সালেও পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এবারে যেন সব ফিকে হয়ে গিয়েছে। পার্থকে ছাড়া প্রথম ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ তৃণমূলের।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে গত বছর ২২ জুলাই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা তল্লাশির পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়। ছয়দিনের মাথায় ২৮ জুলাই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রীত্ব সহ দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকদিণ ধরেই দলের ‘মহাসচিব’ পদ খালি পড়েছিল। অবশেষে নানা আলোচনার পর এই পদটি তুলে নেয় তৃণমূল। অর্থাৎ এখন থেকেই শাসক দলে ‘মহাসচিব’ পদের কোনও অস্তিত্ব নেই।

উল্লেখ্য, পার্থর গ্রেফতারির পর দলের কাউকেই তাঁর পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, ”২০২২ সালের ২১ জুলাই একই মঞ্চে কত কথা হয়েছে পার্থর সঙ্গে। ওঁর নামে যে অভিযোগ উঠেছে, এরকম পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে চিনি না।” সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “আমরা দুঃখিত ওঁর মতো লোক আমাদের দলে ছিল। এখন আর ওঁকে মিস করি না।” অন্যদিকে, কয়েকদিন আগে বাগ কমিটির প্রধান জানিয়েছিলেন, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে কোনও রাজনৈতিক চাপ আসেনি। রাজ্য সরকার সবরকমভাবেই সাহায্য করেছে।
গতবারেও তাঁর কাঁধে ছিল গুরুদায়িত্ব, সেই পার্থকে ছাড়াই প্রথম ২১ জুলাই তৃণমূলের




