নজরবন্দি ব্যুরো: চাকরি ফেরত পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ববিতা সরকার। তাঁর আর্জিতে সায় দিয়ে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ২০১৬ সালের একাদশ-দ্বাদশের মেধাতালিকা নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর এসএসসি সুপ্রিম কোর্টে গেলে আবেদন খারিজ হয়ে যায়। অবশেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশ মতই কাজ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। মোট ৫৭৫৭ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ২১ জুলাই থেকেই ভাসবে বাংলা? আজ কলকাতার আবহাওয়া কেমন থাকবে


মন্ত্রী কন্যার বিরুদ্ধে গিয়ে চাকরি নিজের নামে করেছিলেন ববিতা সরকার। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম বেশ আলোচিত। কিন্তু তাঁকেও চাকরি হারাতে হয়েছে। এখন সেই চাকরি ফেরাতে মরিয়া ববিতা। তাই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর মেধাতালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। এই মামলায় ববিতা সরকারের আর্জিতে রায়তে সাড়া দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত হওয়া ৫ হাজার ৫০০ জন-সহ ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের ওএমআর প্রকাশ করার নির্দেশ দেয় আদালত। হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের যায় এসএসসি।

কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে রাজ্যের আবেদন খারিজ করে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় বহাল রাখে সর্বোচ্চ আদালত। আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসিকে ওএমআর শিট প্রকাশ করতে হবে বলে জানা গিয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই আজ স্কুল সার্ভিস কমিশন ৫৭৫৭ জনের মেধাতালিকা প্রকাশ করে। মূলত ২০১৬ সালের নিয়োগে কোনও গরমিল রয়েছে কিনা তা জানতে চায় আদালত। মামলাকারী ববিতার দাবি ছিল, সেই নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকলে তবে তিনি চাকরি ফেরত পেতে পারেন।



গত বছর রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর বেনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্বারস্থ হন ববিতা। অভিযোগ ছিল, ক্ষমতার বলে অন্যায়ভাবে চাকরি দখল করে রেখেছেন মন্ত্রী কন্যা। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। হাইকোর্টের নির্দেশে অঙ্কিতা অধিকারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। সেই চাকরি পান ববিতা সরকার। এরপর ববিতার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে মামলা করেন ওই পদের অন্যতম দাবিদার অনামিকা রায়। তাঁর দাবি, ববিতার প্রাপ্ত নম্বর ৬০ শতাংশ না হওয়া সত্ত্বেও তিনি ফর্মে ৬০ শতাংশ লিখেছেন। যে কারণে তাঁর অ্যাকাডেমিক স্কোর বেড়ে যায়। কিন্তু ববিতার থেকে অনামিকার নম্বর বেশি। এই মর্মেই ফের শুরু হয় মামলা। গত ১৬ মে হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ববিতার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। এরপরই চাকরি ফেরত পেতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন ববিতা।
ববিতার আর্জিতে হাইকোর্টের নির্দেশ, একাদশ-দ্বাদশের মেধাতালিকা প্রকাশ করল SSC









