ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনের গণনায় ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে রাজনৈতিক বার্তা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ভোটগণনা, আর শুরু থেকেই বড় লিড নিয়ে এগিয়ে বিজেপি। সবচেয়ে বড় চমক, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান ওরফে ‘পুষ্পা’ পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে। অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য ভোটে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিআইএম।
রবিবার সকাল আটটা থেকে শুরু হয়েছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের গণনা। প্রথমে ব্যালট গণনায় এগিয়ে যায় বিজেপি। পরে ইভিএম খোলার পরেও সেই ধারা বজায় থাকে। ২১ রাউন্ডের মধ্যে ১২ রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।


শেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির দেবাংশু পাণ্ডা পেয়েছেন ৮০,৩৯৮ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মী, তাঁর ঝুলিতে ২৭,৫৪৫ ভোট। তৃতীয় স্থানে কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা পেয়েছেন ৬,৯১৮ ভোট। আর তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান পেয়েছেন মাত্র ৪,০৪৬ ভোট, ফলে তিনি নেমে গিয়েছেন চতুর্থ স্থানে।

গণনা শুরুর আগেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে তিনি বলেন, “দলের কর্মীদের মধ্যে প্রবল উদ্দীপনা রয়েছে। আমরা নিশ্চিত, ফলতা বিজেপির দখলেই আসছে।” তাঁর দাবি, এই ফল রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণেরই প্রতিফলন।
গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা নজরে পড়েছে সকাল থেকেই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে চর্চার বিষয়, গণনাকেন্দ্রে তৃণমূলের কোনও এজেন্ট উপস্থিত নেই বলেই খবর।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার এই ফল শুধু একটি উপনির্বাচনের অঙ্ক নয়, বরং দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশেষ করে বিজেপির উত্থানের পাশাপাশি সিপিএমের ভোটবৃদ্ধি এবং তৃণমূলের পিছিয়ে পড়া এখন রাজ্য রাজনীতির নতুন আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
গণনা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে ফলতার ভোটযুদ্ধ একতরফা দিকে ঝুঁকছে। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



