রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রথম বড় রাজনৈতিক বার্তা যেন উঠে এল ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনের গণনা কেন্দ্র থেকে। একসময় ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই আসনে তৃণমূলের বিশাল লিড থাকলেও, এবার গণনায় কার্যত ধস নামল ঘাসফুল শিবিরে। অন্যদিকে বিজেপির উত্থানের পাশাপাশি নজর কাড়ছে সিপিআইএমের ভোট বৃদ্ধিও।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৭ লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই তিনি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩৭২ ভোটের বিশাল লিড। ভোট-পরবর্তী সময়ে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিল, সেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হয়নি।


বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ হয়। আর সেই ভোটের গণনায় সম্পূর্ণ অন্য ছবি সামনে এসেছে বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
মোট ২১ রাউন্ড গণনার মধ্যে ১০ রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৩৮ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মী। তাঁর ঝুলিতে এসেছে ২৫ হাজার ২৯৮ ভোট। কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা পেয়েছেন ৬ হাজার ৪২৯ ভোট।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা তৃণমূলের জন্য। এই আসনে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান এখনও পর্যন্ত পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৩০৪ ভোট এবং তিনি চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফল শুধু উপনির্বাচনের ফল নয়, বরং রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনেরও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।


লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যানের সঙ্গে বর্তমান ফলের তুলনা করলে চিত্রটা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ফলতা বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল পেয়েছিল ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬৩৫ ভোট। সেখানে বিজেপির ভোট ছিল মাত্র ১৫ হাজার ২৬৩। সিপিআইএম পেয়েছিল ২ হাজার ৩১৫ ভোট।
অর্থাৎ, এবারের উপনির্বাচনে বিজেপি যেখানে তিন গুণেরও বেশি ভোট বাড়িয়েছে, সেখানে সিপিআইএমের ভোট বৃদ্ধি প্রায় ১০ গুণ ছুঁয়েছে। দীর্ঘদিন পর বামেদের ভোটব্যাঙ্কে এমন উত্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ফলতার এই ফলাফল এখন শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্রের অঙ্ক নয়, বরং বাংলার বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণেরও বড় ইঙ্গিত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তৃণমূলের একসময়কার শক্ত ঘাঁটিতে এই ফল ভবিষ্যতের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



