বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং দ্বিতীয় প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজের হল ৪৮ ঘণ্টা আগেই ‘হাউসফুল’! লন্ডনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বক্তৃতা ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ। আগত দর্শকদের জন্য প্রবেশ অবাধ হলেও, নিয়ম মেনে অগ্রিম আসন সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আগেই। কিন্তু বর্তমানে আবেদনকারীদের ‘ওয়েটিং লিস্টে’ রাখা হচ্ছে।
এটি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা ভারতের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত, যেখানে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে চলেছেন বিশ্বের এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে।


কী নিয়ে আলোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী?
২১ মার্চ (বৃহস্পতিবার) লন্ডনের সময় বিকেল ৫টায় শুরু হবে এই বিশেষ আয়োজন। অনুষ্ঠানের মূল আলোচনার বিষয়: “সামাজিক উন্নয়ন – বালিকা, শিশু এবং নারীর ক্ষমতায়ন”।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে থাকবেন—অক্সফোর্ড কেলগ কলেজের সভাপতি অধ্যাপক জোনাথন মিচি। বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোগী লর্ড করণ বিলিমোরিয়া
ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী (প্রত্যাশিত)


নারী ক্ষমতায়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই নারী শিক্ষার প্রসার ও ক্ষমতায়ন-এ জোর দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উদ্যোগে চালু হওয়া ‘কন্যাশ্রী প্রকল্প’ ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেয়েছে।
এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে গৃহীত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প: ‘সবুজ সাথী’ – প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের স্কুলমুখী করতে বিনামূল্যে সাইকেল প্রদান। ‘রূপশ্রী’ – বিয়ের সময় আর্থিক সহায়তা প্রদান। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ – আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে মহিলাদের জন্য মাসিক ভাতা। ‘স্বাস্থ্যসাথী’ – পরিবারপ্রধান হিসেবে মহিলাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে স্বাস্থ্যসুবিধা প্রদান। এই সকল সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও বাংলার নারীদের সংগ্রামের ইতিহাস অক্সফোর্ডের ছাত্রদের সামনে তুলে ধরবেন মুখ্যমন্ত্রী।
অক্সফোর্ডে বঙ্গজ শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস
বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ডে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে কেলগ কলেজে পড়ুয়াদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। স্বাভাবিকভাবেই, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা শুনতে আগ্রহী বহু ভারতীয় ও বঙ্গজ ছাত্রছাত্রী। আসন সংরক্ষণের উন্মাদনাই প্রমাণ করে দিয়েছে, কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা নিয়ে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে অক্সফোর্ডের বুদ্ধিজীবী মহলে।







