নজরবন্দি ব্যুরো: “মন্ত্রীর ইচ্ছেতেই সবটা হয়েছে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নির্দেশেই মা ও স্ত্রীকে সংস্থার ডিরেক্টর পদে বসানো হয়েছিল।” রেশন দুর্নীতি মামলায় এমনটাই জানালেন বালুর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক অভিজিৎ দাস। শুধু তাই নয়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অনুরোধ তিনি ফেরাতে পারেননি বলেই দাবি করেছেন প্রাক্তন আপ্তসহায়ক। অভিজিত জানান যে, মন্ত্রীর সংস্থার ডিরেক্টর করতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়েছিল। তবে তিনি আপ্তসহায়ক পদ থেকে সরে এলে তাঁর মা এবং স্ত্রীকেও সরিয়ে এনেছিলেন।
প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে তোলপাড় বাংলা! দুর্নীতির দায়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমান। শুধু তাই নয়, দুর্নীতি মামলায় রহস্য সমাধানে মন্ত্রী ঘনিষ্টদের তলব করছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা। এই তালিকায় নাম জড়িয়েছে বালুর আপ্তসহায়কদেরও। যার দরুন একাধিকবার বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক অভিজাৎ দাস ও বর্তমান আপ্ত-সহায়ক অমিত দে কেও তলব করেছিল ইডি।

কিন্তু তদন্তের শুরুতেই মন্ত্রীর বর্তমান আপ্ত-সহায়ক অমিত দে-ও অভিযোগ করেছিলেন, যা জানেন সব প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক অভিজিৎ। শুধু তাই নয়, এই অভিজিতের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছিল মেরুন ডায়রি। তবে নিজের ওপর ওঠা সমস্ত অভিযোগ করেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক অভিজাৎ দাস। এপ্রসঙ্গে তিনি আগেই দাবি করে জানিয়েছিলেন যে, “যে কেউই আমার নামে অভিযোগ করতে পারেন। তবে এর কোনও প্রমাণ নেই। তাই প্রমাণ ছাড়া এই সব অভিযোগ বৃথা।”
মন্ত্রীর ইচ্ছেতেই প্রাক্তন আপ্তসহায়কের মা-স্ত্রীকে ডিরেক্টর পদে বসানো হয়েছিল, দাবি অভিজিতের 
এবার ফের রেশন দুর্নীতি মামলায় মুখ খুললেন জ্যোতিপ্রিয়ের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক অভিজিৎ দাস। তিনি বলেন, “আমি জ্যোতিপ্রিয়বাবুর কাছে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কাজ করেছি। সেই সময় মন্ত্রীর অনুরোধ আমি ফেরাতে পারিনি। তাঁর নির্দেশেই আমার মা এবং স্ত্রীকে সংস্থার ডিরেক্টর করা হয়েছিল। আর মন্ত্রী যখন নির্দেশ দিয়েছিলেন তখন আমি তা পালনও করেছিলাম। কিন্তু ওই সংস্থা গুলির ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। ২০১৪ সালেই যখন আমি বেরিয়ে আসি তখনই আমার মা এবং স্ত্রী সংস্থা থেকে সরে আসেন।”




