৮৫-ঊর্ধ্ব ভোটার শুনানিকেন্দ্রে এলেই শাস্তি পাবেন বিএলও, কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে কোনও ভোটার শুনানিকেন্দ্রে এলেই দায়ী হবেন বিএলও ও সুপারভাইজ়ার—বয়স্ক ভোটার ইস্যুতে কড়া নির্বাচন কমিশন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

৮৫ বছরের বেশি বয়সি কোনও ভোটারকে যদি শুনানিকেন্দ্রে দেখা যায়, তা হলে আর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই—সরাসরি সংশ্লিষ্ট বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও)-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে নির্বাচন কমিশন। বয়স্ক, অসুস্থ ও বিশেষ ভাবে সক্ষম ভোটারদের নিয়ে বাড়তে থাকা বিতর্কের মাঝেই নিয়মে কড়াকড়ি করল কমিশন। স্পষ্ট বার্তা—এই শ্রেণির ভোটারদের শুনানিকেন্দ্রে যেতে বাধ্য করা হলে জবাবদিহি করতে হবে শুধু বিএলও নয়, তাঁর সুপারভাইজ়ারকেও।

কমিশন সূত্রে খবর, ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে কোনও ভোটার বা গুরুতর অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শুনানিকেন্দ্রে ডাকা হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগেই জানানো হয়েছিল, এই সমস্ত ভোটারদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়েই শুনানি করতে হবে। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শুনানির লাইনে অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ ভোটারদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেই ছবি ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক।

পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল প্রথম থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে অভিযোগ তোলে, মুমূর্ষু রোগীকেও শুনানিকেন্দ্রে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিতর্ক চরমে ওঠার পর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়—৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটারদের শুনানির জন্য আর কেন্দ্র পর্যন্ত আসতে হবে না। তাঁদের বাড়িতে গিয়েই নথি যাচাই ও শুনানি সম্পন্ন করতে হবে। এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএলও, ইআরও এবং এইআরও-দের উপর।

নতুন নির্দেশিকায় কমিশন আরও জানিয়েছে, ইতিমধ্যে যদি কোনও ৮৫-ঊর্ধ্ব বা অসুস্থ ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়ে থাকে, তা হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আলাদা করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অনুরোধ করতে হবে যেন তাঁরা শুনানিকেন্দ্রে না আসেন। কারণ, ওই ভোটারদের সমস্ত প্রক্রিয়া বাড়িতেই সম্পন্ন করা হবে।

তবে এই বিজ্ঞপ্তি ঘিরে কিছু বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। ‘অসুস্থ’ বলতে ঠিক কোন ধরনের শারীরিক অবস্থাকে বোঝানো হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত। পাশাপাশি, অনেকের দাবি—বাড়িতে গিয়ে শুনানির বয়সসীমা ৮৫-তেই আটকে না রেখে আরও কমানো উচিত। কারণ, ৮৫ বছরে পৌঁছনোর আগেই বহু ভোটার শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন বা চলাফেরায় সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে যান। তাঁদের পক্ষেও দূরের শুনানিকেন্দ্রে যাওয়া কার্যত অসম্ভব।

সব মিলিয়ে, ভোটারদের হয়রানি বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের কড়া অবস্থান স্পষ্ট। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ কতটা সংবেদনশীল ও কার্যকর ভাবে প্রয়োগ করা যাবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন