ভোটগণনার আগের রাতেই স্পষ্ট বার্তা—কোনও রকম ভুল বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি চাকরিও যেতে পারে।
সোমবার, ৪ মে রাজ্যজুড়ে ভোটগণনা। তার আগে প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন। গণনার কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—প্রতিটি ধাপে গাইডলাইন মেনে নির্ভুলভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত করাই এবার কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।


সূত্রের খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটপর্বে কিছু প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এবার রাজ্যে দুই দফায় ভোট হয়েছে এবং রেকর্ড হারে ভোটদানের কথাও জানিয়েছে কমিশন। বর্তমানে ইভিএমগুলি কড়া নিরাপত্তায় স্ট্রংরুমে রাখা রয়েছে। গণনার দিন কোনও ফাঁকফোকর যাতে না থাকে, তার জন্য বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
রাজ্যের মোট ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিয়োগ করা হয়েছে ১৬৫ জন কাউন্টিং অবজার্ভার, তাঁদের সহায়তায় অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকও থাকছেন। পাশাপাশি ৭৭ জন পুলিশ অবজার্ভারও থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে। সব মিলিয়ে গণনাকেন্দ্রগুলো কার্যত ‘দুর্গে’ পরিণত হয়েছে।


শুধু নিরাপত্তা নয়, ভিড় ও উত্তেজনা এড়াতেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলকাতার গণনাকেন্দ্রগুলিতে Section 163 CrPC জারি করা হয়েছে। স্ট্রংরুমের ২০০ মিটারের মধ্যে পাঁচ জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ। উদ্দেশ্য একটাই—গণনা প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
সব মিলিয়ে, ভোটের মতোই গণনাতেও কড়া নজর নির্বাচন কমিশনের—‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তাই স্পষ্ট প্রশাসনিক মহলে।







