হল না জয়ের হ্যাটট্রিক, থামল ইস্টবেঙ্গলের ছন্দ

এডমুন্ডের গোলে এগিয়েও ডিফেন্সিভ ভুলে ২-১ হার ইস্টবেঙ্গলের। মাদিহ তালাল ও রেই তেচিকাওয়ার দাপটে ম্যাচ ঘুরিয়ে নেয় জামশেদপুর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

জয়ের ছন্দে থাকা ইস্টবেঙ্গলের সামনে ছিল হ্যাটট্রিকের হাতছানি। কিন্তু ঘরের মাঠেই ফের পুরনো রোগ— লিড ধরে রাখতে না পারার ব্যর্থতা। এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জামশেদপুর এফসির কাছে হার মানল অস্কার ব্রুজোর দল। প্রাক্তনী মাদিহ তালাল ও মেসি বাউলিদের দাপটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল লাল-হলুদ।

টানা দুই জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই জামশেদপুরের হাই প্রেসিং ফুটবল চাপে ফেলে দেয় আনোয়ারদের। মাঝমাঠে নতুন পরীক্ষানিরীক্ষা করেছিলেন কোচ অস্কার ব্রুজো, কিন্তু মাদিহ তালাল ও নিকোলা স্টোজানোভিচের সমন্বিত খেলায় দ্রুত দখল নেয় আওয়েন কয়েলের দল। প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার মেসি বাউলির একটি গোল অফসাইডে বাতিল হওয়াই ছিল প্রথম সতর্কবার্তা।

তবু প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ৪০ মিনিটে এডমুন্ড লালরিন্ডিকা দুরন্ত ফিনিশে বল জড়ান জালে। গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস, মাঠে বিপিন সিং ও এডমুন্ডদের উইং আক্রমণে চাপে পড়ে জামশেদপুর রক্ষণ। দ্বিতীয় গোল যেন সময়ের অপেক্ষা ছিল। কিন্তু ইউসেফ এজ্জেজারির সহজ হেড মিস ম্যাচের মোড় ঘোরানোর অন্যতম মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়।

দ্বিতীয়ার্ধে চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। হঠাৎই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। ৬০ মিনিটে নিকোলার কর্নার থেকে কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় হেড করে সমতা ফেরান স্টিফেন এজে। সেট-পিস রক্ষণের দুর্বলতা আবারও সামনে আসে।

সমতা ফেরার পর অস্কার ব্রুজোর কিছু পরিবর্তন প্রশ্নের মুখে পড়ে। অভিষেক হওয়া অ্যান্টনকে ম্যাচে কার্যত খুঁজেই পাওয়া যায়নি। নন্দকুমার, সৌভিকদের বদলি হিসেবেও প্রভাব পড়েনি খেলায়। মাঝমাঠ ও উইং— দুই জায়গাতেই আধিপত্য বিস্তার করে জামশেদপুর।

ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় ৮৭ মিনিটে। মাদিহ তালালের দুর্দান্ত ব্যাক-হিল পাস থেকে রেই তেচিকাওয়ার শক্তিশালী শটে এগিয়ে যায় জামশেদপুর। শেষ মুহূর্তে মরিয়া চেষ্টা করেও সমতা ফেরাতে পারেননি মিগুয়েলরা।

এই হারের ফলে জয়ের হ্যাটট্রিক তো দূরের কথা, লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠার সুযোগও হাতছাড়া করল ইস্টবেঙ্গল। আবারও স্পষ্ট হল— ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর ছন্দ ধরে রাখাই এখন লাল-হলুদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন